
আরিফুর রহমান–লক্ষ্মীপুর সদর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কফিলউদ্দিন ডিগ্রি কলেজে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল হতাশাজনকভাবে নিম্নমুখী হয়েছে। কলেজটির এবারের পাসের হার মাত্র ৩৮ শতাংশ, যা স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রিয়ব্রত চৌধুরীর দেওয়া তথ্যমতে, মোট ৮৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩৩৩ জন। বাকিরা সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। একসময় জেলার অন্যতম মানসম্মত কলেজ হিসেবে খ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল শিক্ষাক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, একাডেমিক পরিবেশের অবনতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা, শিক্ষক অনীহা ও নেতৃত্বহীনতা এই ভয়াবহ ফলাফলের মূল কারণ। তারা জানান, ক্লাস অনিয়মিত, পাঠদানে আগ্রহের অভাব এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলাই শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফলাফলের জন্য দায়ী।
একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কলেজে শিক্ষার পরিবেশ এখন নেই বললেই চলে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশাসনিকভাবে ব্যর্থ, শিক্ষকরা বিভক্ত, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপর।
ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেমেছে হতাশার ছায়া। কেউ কেঁদেছে, কেউ আবার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলে, তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষকরা অনেক সময় আসতেন না বা মনোযোগ দিতেন না।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলেজে এখন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ঘাটতি স্পষ্ট। একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকলেও তাঁর মধ্যে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার মতো গুণ বা দক্ষতা নেই।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন, এই ভয়াবহ ফলাফল কলেজের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অধ্যক্ষের অযোগ্যতার ফল। তারা দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
একজন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ৮৬৩ জনের মধ্যে মাত্র ৩৩৩ জন পাস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি পুরো একাডেমিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, যা নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত প্রয়োজন।
কফিলউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একসময়ের সুনাম এখন হারানোর পথে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনলে আগামী বছরগুলোতে কলেজটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অধ্যক্ষের দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত না হলে এমন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের পতন ঠেকানো কঠিন হবে—এমনই আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।
আরিফুর রহমান–লক্ষ্মীপুর সদর 

























