
গোলাম রব্বানী–তালা সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:-
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের ৪ টি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা চাঁদাবাজ, লুটপাট, নারী ধর্ষণকারীকে ব্যালট পেপারের মধ্যমে বয়কট করেছে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ গুলোর ভোটাররা দেখিয়ে দিয়েছে দেশের মানুষের কষ্ট দিয়ে ক্ষতি করে ভোট পাওয়া যায় না।
যাদের কে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে বের করে দেয়া হতো, রাজাকার বলে খালি দেয়া হতো তাদের কে শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বিজয়ী করেছে।
তিনি বলেন,আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপির মত লুটপাটকারী চাঁদাবাজির সাথে জড়িত দলের আর ভোট দেবে না। তারা দাড়ী পাল্লায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।
গোলাম পরওয়ার এনসিপি কে ইঙ্গিত করে বলেন, হঠাৎ একটা শিশু রাজনৈতিক সংগঠনের এক নেতা জামাতে ইসলামীর আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন যা সত্যি নয়। ওরা এখনও শিশু সংগঠনের নেতা,২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ওদের ভালো ভুমিকা ছিল, দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সাথে ওরাও আন্দোলন করেছিল তার মানে এই নয় যে ওরা মুরুব্বি সংগঠনের বিরুদ্ধে বলবে। ওরা বক্তব্য দিয়ে একটু গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন জামায়াত এই শিশু সংগঠনের কোন গুরুত্ব দেয় না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ফুটবল মাঠে জামায়াতের ছাত্র–যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে “বিশাল ছাত্র–যুব মহাসমাবেশ ২০২৫” অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষ এবার দাড়ী পাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। নতুন বাংলাদেশে যে ঢেউ শুরু হয়েছে তা সারা বাংলাদেশে পৌছে দিতে হবে। জামায়াত ইসলামী গুম, খুন, লুটপাট ও দুর্নীতি মুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়।
কোন উস্কানিতে উত্তেজিত না হয়ে তালা-কলারোয়ার মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন উস্কানির ফাঁদে পা দেবেন না। একটি পক্ষ আমাদের গণ জোয়ার রুখে দিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। জামায়াত ঘের দখল, জমি দখল করে না, বালু উত্তোলন করে না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না, লুটপাট থাকবে না। তাই এবার সকলকে দাড়ীপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, ১৯৯১ সালে কোনো জোট ছাড়া তালা-কলারোয়ায় জামায়াতের প্রার্থী শেখ আনছার আলী বিজয়ী হয়েছিলেন। এক সময় মানুষ ভাবত হিন্দু মানে আওয়ামী লীগ, হিন্দু মানে নৌকা। এখন সময় বদলেছে, তালা-কলারোয়ায় হিন্দু মানে দাড়ি পাল্লা। বিএনপির এক নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা বলে, তবে এটি ফ্যাসিস্ট মনোভাবের প্রকাশ। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা কখনো অন্য দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের পোস্টার-লিফলেট ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও: মফিদুল্লার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা -১(তালা -কলারোয়া) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাও: আজিজুর রহমান, সহকারি সেক্রেটারী অধ্যাপক সুজায়েত আলী, তালা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক ইদ্রিস আলী, সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।
গোলাম রব্বানী– তালা (সাতক্ষীরা) 


























