Dhaka ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

নিয়ামতপুরে নেই সার্ভেয়ার, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

print news

◼️মাসুদ রানা মিশু–নওগাঁ

 

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সার্ভেয়ারের পদ শূন্য। ফলে ভূমি-সংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের কাজেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জমির মাপজোক থেকে শুরু করে সীমানা নির্ধারণ, নামজারি কিংবা খতিয়ান সংশোধন—সব কাজেই সার্ভেয়ার অপরিহার্য। কিন্তু স্থায়ী সার্ভেয়ার না থাকায় উপজেলার হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক টুকরো জমির মাপ নিতে গেলেও মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জমিজমা নিয়ে পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে। অনেকে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য জমির রেজিস্ট্রি করতে চাইলে সঠিক মাপ না থাকায় লেনদেন আটকে যাচ্ছে। ফলে জমির মালিকেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

একজন ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন,

“আমি জমি বিক্রি করতে চাইছিলাম। কিন্তু মাপজোক করতে সার্ভেয়ার নেই। ক্রেতা জমির সঠিক পরিমাপ না পেয়ে টাকা দিচ্ছে না। এতে আমার পরিবার চরম সমস্যায় পড়েছে।”

সার্ভেয়ার সংকটে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেকে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। আইনজীবীরা বলছেন, সীমানা নির্ধারণে বিলম্বের কারণে মামলা-মোকদ্দমা দিন দিন বাড়ছে। আর এ জন্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে পাশের উপজেলা থেকে সার্ভেয়ার এনে কাজ চালানো হলেও তা নিয়মিত নয়। ফলে ভোগান্তি যেন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“ভূমি অফিসে গেলে বলা হয়, সার্ভেয়ার নেই—অন্য উপজেলা থেকে আসবে। কিন্তু সেই আসা-যাওয়াই অনিয়মিত। এতে দিন গুনে অপেক্ষা ছাড়া আমাদের কিছু করার থাকে না।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে নিয়ামতপুর উপজেলায় স্থায়ী সার্ভেয়ার নিয়োগ দিতে হবে। নইলে জমিজমা সংক্রান্ত কাজের অচলাবস্থা দূর হবে না। কৃষিজ অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবন ব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি,

“যদি দ্রুত সার্ভেয়ার নিয়োগ না হয় তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

নিয়ামতপুরে নেই সার্ভেয়ার, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আপডেটের সময়: ০৬:১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️মাসুদ রানা মিশু–নওগাঁ

 

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সার্ভেয়ারের পদ শূন্য। ফলে ভূমি-সংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের কাজেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জমির মাপজোক থেকে শুরু করে সীমানা নির্ধারণ, নামজারি কিংবা খতিয়ান সংশোধন—সব কাজেই সার্ভেয়ার অপরিহার্য। কিন্তু স্থায়ী সার্ভেয়ার না থাকায় উপজেলার হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক টুকরো জমির মাপ নিতে গেলেও মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জমিজমা নিয়ে পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে। অনেকে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য জমির রেজিস্ট্রি করতে চাইলে সঠিক মাপ না থাকায় লেনদেন আটকে যাচ্ছে। ফলে জমির মালিকেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

একজন ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন,

“আমি জমি বিক্রি করতে চাইছিলাম। কিন্তু মাপজোক করতে সার্ভেয়ার নেই। ক্রেতা জমির সঠিক পরিমাপ না পেয়ে টাকা দিচ্ছে না। এতে আমার পরিবার চরম সমস্যায় পড়েছে।”

সার্ভেয়ার সংকটে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেকে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। আইনজীবীরা বলছেন, সীমানা নির্ধারণে বিলম্বের কারণে মামলা-মোকদ্দমা দিন দিন বাড়ছে। আর এ জন্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে পাশের উপজেলা থেকে সার্ভেয়ার এনে কাজ চালানো হলেও তা নিয়মিত নয়। ফলে ভোগান্তি যেন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“ভূমি অফিসে গেলে বলা হয়, সার্ভেয়ার নেই—অন্য উপজেলা থেকে আসবে। কিন্তু সেই আসা-যাওয়াই অনিয়মিত। এতে দিন গুনে অপেক্ষা ছাড়া আমাদের কিছু করার থাকে না।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে নিয়ামতপুর উপজেলায় স্থায়ী সার্ভেয়ার নিয়োগ দিতে হবে। নইলে জমিজমা সংক্রান্ত কাজের অচলাবস্থা দূর হবে না। কৃষিজ অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবন ব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি,

“যদি দ্রুত সার্ভেয়ার নিয়োগ না হয় তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”