Dhaka ১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৪৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ, আমার নাম ভাঙিয়ে ছাড় নেই: এমপি ডা. সালাম কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ব্র্যাকের নাম ভাঙিয়ে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, আটক ১ বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বগুড়ার কাহালুতে চাঞ্চল্যকর দাদা-শ্বশুর হত্যা মামলার আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বিক্ষোভ দিনাজপুর-২ আসনে শিক্ষা খাতে ৬ কোটির বরাদ্দ মাদক ও ধূমপানমুক্ত সমাজ গড়তে ডাব্লুএসএফসির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ বাবার বাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ: রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার ভাঙন ও বন্যা কবলিতদের পাশে প্রশাসন ট্রেনে কাটা পড়া তরুণের পরিবারের পাশে প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পুনর্বহাল: সুহিলপুরে ফুঁসে উঠেছে জনতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ ভূঞাকে পুনরায় স্বপদে বহালের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সুহিলপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ এই ফ্যাসিস্ট নেতার পুনর্বহাল কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক সরকারি স্মারকে (নম্বর: ০৫.৪২.১২০০.১১.০৩২.০০৪.২৬.৩৬৩) এই পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ ভূঞা ৭টি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে থাকায়, জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে সদর উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রায়হান উদ্দিনকে ইউপির প্রশাসক হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে আবদুর রশিদ পুনরায় স্বপদে যোগদানের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে সরকারি আইনজীবী (জি.পি) কার্যালয়ের আইনগত মতামতের ভিত্তিতে— যেখানে বলা হয় ফৌজদারি মামলায় চূড়ান্ত দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার যোগদানে আইনগত বাধা নেই— জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ গতকাল প্রশাসক মোঃ রায়হান উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আবদুর রশিদ ভূঞাকে পুনর্বহালের নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের এই আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সুহিলপুর ইউনিয়ন জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ জনগণের দাবি, এই চেয়ারম্যানের আমলে তারা চরম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবদুর রশিদ ভূঞা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকার অসহায় মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি অনুদান, ত্রাণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিজের কব্জায় রেখে কেবল দলীয় কর্মীদের মাঝে বণ্টন করতেন। গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হক কেড়ে নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে এক বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, “আমরা ফ্যাসিস্ট আমলের এই নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানকে আর চেয়ারে দেখতে চাই না। প্রশাসক মহোদয় (মোঃ রায়হান উদ্দিন) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শান্তিতে আছি, সব ধরনের নাগরিক সুবিধা ও দাবি-দাওয়া সঠিকভাবে পাচ্ছি। আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক মহোদয়ই যেন এই দায়িত্বে বহাল থাকেন— এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।”
বর্তমানে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। স্থানীয়দের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, গণধিকৃত কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সুহিলপুরের মানুষ আর ইউনিয়ন পরিষদে বসতে দেবে না।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৪৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ, আমার নাম ভাঙিয়ে ছাড় নেই: এমপি ডা. সালাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পুনর্বহাল: সুহিলপুরে ফুঁসে উঠেছে জনতা

আপডেটের সময়: ১১:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ ভূঞাকে পুনরায় স্বপদে বহালের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সুহিলপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ এই ফ্যাসিস্ট নেতার পুনর্বহাল কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক সরকারি স্মারকে (নম্বর: ০৫.৪২.১২০০.১১.০৩২.০০৪.২৬.৩৬৩) এই পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ ভূঞা ৭টি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে থাকায়, জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে সদর উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রায়হান উদ্দিনকে ইউপির প্রশাসক হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে আবদুর রশিদ পুনরায় স্বপদে যোগদানের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে সরকারি আইনজীবী (জি.পি) কার্যালয়ের আইনগত মতামতের ভিত্তিতে— যেখানে বলা হয় ফৌজদারি মামলায় চূড়ান্ত দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার যোগদানে আইনগত বাধা নেই— জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ গতকাল প্রশাসক মোঃ রায়হান উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আবদুর রশিদ ভূঞাকে পুনর্বহালের নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের এই আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সুহিলপুর ইউনিয়ন জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ জনগণের দাবি, এই চেয়ারম্যানের আমলে তারা চরম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবদুর রশিদ ভূঞা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকার অসহায় মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি অনুদান, ত্রাণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিজের কব্জায় রেখে কেবল দলীয় কর্মীদের মাঝে বণ্টন করতেন। গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হক কেড়ে নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে এক বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, “আমরা ফ্যাসিস্ট আমলের এই নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানকে আর চেয়ারে দেখতে চাই না। প্রশাসক মহোদয় (মোঃ রায়হান উদ্দিন) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শান্তিতে আছি, সব ধরনের নাগরিক সুবিধা ও দাবি-দাওয়া সঠিকভাবে পাচ্ছি। আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক মহোদয়ই যেন এই দায়িত্বে বহাল থাকেন— এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।”
বর্তমানে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। স্থানীয়দের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, গণধিকৃত কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সুহিলপুরের মানুষ আর ইউনিয়ন পরিষদে বসতে দেবে না।