
শাহানুর রহমান নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেখ আলমগীর হাসান।
তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চিকয়া গ্রামের শেখ আব্দুল আজিজের ছেলে।
প্রতিপক্ষ শাহানুর রহমান একই জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার শাহারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ আলমগীর হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,
ধরিয়ে দেয়ার কথা বলে ৩০ হাজার ইউএস ডলার পুরস্কার ঘোষনা ও মিথ্যা তথ্য উত্তাপন এবং আমি ভিকটিম শেখ আলমগির হাসান এর শেয়ারের ব্যাবসার লভ্যাংশ এবং আমার প্রাপ্ত মুজুরির টাকা প্রায় ২ লক্ষ ৭১ হাজার ইউএস ডলার যা বাংলা মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা আত্মসাত কল্পে আমার মালিক/ব্যাসায়িক পার্টনার শাহানুর রহমান ভিত্তিহীন অপতত্ব বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেন। প্রকৃত পক্ষ্যে আমার পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য এটি তার হীন স্বড়যন্ত্র।
তিনি বলেন,আমি আমার প্রতিপক্ষ মো. শাহানুর রহমান এর সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে আমাকে যুক্তরাষ্ট্র (আমরিকা) এর নিউইয়র্ক যেতে বলেন। অতপরঃ আমার ব্যাবসায়ীক অংশিদার ও মালিক শাহানুর রহমান কাজ দেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক থেকে মুঠো ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরের বুফোর্ড হাইওয়ে এনই (Buford Hwy NE) এলাকায় অবস্থিত সিটগো গ্যাস স্টেশন ঠিকানায় নিয়ে যায় এবং মাসিক বেতন ৬০০০ হাজার ইউএস ডলার যা বাংলা টাকায় (তৎকালীন) প্রায় ৭লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সম্মানি বেতন নির্ধারণ করেন। প্রায় ১৮ মাস উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকি। আমার ৬মাসে মোট বাংলা মুদ্রায় ৪৪,০০,০০০/- (চোয়াল্লিাশ লক্ষ) টাকা পাওনা দাড়ালে তিনি আমাকে ব্যাবসার অংশিদার হিসাবে থাকার জন্য প্রস্থাব করেন। এবং ব্যাবসায় অংশিদার হওয়ার জন্য বেতন বাবদ পাওনা টাকা ৪৪ লাক্ষ টাকা ছাড়াও নগদ আরও বাংলা মুদ্রা ৫০ লাক্ষ টাকা উনাকে প্রধানের জন্য আমাকে প্রস্থাব করেন। আমি ব্যাবসায় লাভবান হওয়ার অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তার প্রস্থাবে সম্মত হই। পরে ০৩/০৪/২০২৫ ইং তারিখে আমার নিজ বাড়ির ঠিকানায় শাহানুর রহমান সহ হাইয়েছ গাড়ি যোগে তার সঙ্গে আরও ৪ জন মেহমান হিসাবে আমার বাড়িতে আসেন। পূর্বের আলোচনা সাপেক্ষে মেসার্স পাশা অটো রাইস মিল, পরিচালনার দ্বায়িত্তে শেখ ফরহাদ (আমির সহোদর ছোট ভাই) কাপরের একটি ব্যাগে করে বাংলা মুদ্রায় নগদ ৫০ লক্ষ টাকা শাহানুর রহমান এর হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে আরও এক বৎসর (১২মাস) উক্ত প্রতিষ্টানে কর্মরত থাকি। আমার টাকার বিশেষ প্রায়োজন না থাকায় আরও এক বৎসরের পাওনা বাবদ ৭২ হাজার ইউএস ডলার, বাংলা মুদ্রায় প্রায় ৯০লক্ষ টাকা ও ব্যাবসার লভ্যাংশ বাবদ ১লাক্ষ ২০ বিশ হাজার ইউএস ডলার যা বাংলা মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা সহ আমার মোট পাওনার পরিমান দাড়ায় ৩ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে ০১/০১/২০২৬ ইং তারিখে প্রাপ্ত লভ্যাংশ ও বেতনের টাকা বুঝিয়ে দিতে শাহানুর রহমানকে বলি। তখন তিনি টাকা পরিশোধ করবেন মর্মে বিভিন্ন তারিখ নির্ধারণ করেন। এরি মধ্যে আমি আমার যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদনের জন্য আমার আইনজিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রক্রিয়া অনুযায়ী ২১/০১/২০২৬ ইং তারিখে আমার আশ্রয় আবেদন শুনানী হওয়ার কথা ছিল। বর্তমান চলমান মাসেই ০৪/০১/২০২৬ইং তারিখে অন্যান্য কর্মঘন্টার মত কর্মরত থাকা অবস্থায় জনৈক ক্রেতা (স্পেনিশ) যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রিয় আইনের বহির্ভূত সময়ে বিয়ার (মডেল-ও) তাহার কাছে বিক্রির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। আমি তাতে সম্মত না হয়ে অপারগতা প্রকাশ করি। তখন ঐ স্পেনিশ ক্রেতা আমার ব্যাবসায়িক অংশিদার/মালিক শাহানুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে
শাহানুর রহমান ঐ স্পেনিশ ক্রেতার মুঠো ফোনেই আমাকে বিয়ার (মডেল-ও) বিক্রির জন্য বাধ্য করেন।
তার কথা মত বিধি বহির্ভূত সময়ে বিয়ার বিক্রির অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ততক্ষণাৎ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আইন অমান্য করে বিধি বহির্ভূত সময়ে বিয়ার বিক্রি করার অপরাধে আমার ওয়ার্কপারমিট ভেঙ্গে ফেলে আমার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন উক্ত পুলিশ টিম। যার ধার্য্য তারিখ ০৩/০৩/২০২৬ ইং। উক্ত তারিখে আদালতে হাজির হয়ে আইন ভঙ্গের জবাব প্রদানের জন্য লিখিত ভাবে নির্দেশ প্রদান করেন তারা। ঘটনার পর আমার ব্যাবসায়িক অংশিদার/মালিক এর কাছে বিষয়টি অবগত করার পর তিনি মুচকি হেসে (মামু কট খাইলিছইন) এমন শব্দ উচ্চরন করেন। এই কথা শুনার পর আমার আর বুঝতে দেরি হয়নি যে, শাহানুর রহমান ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে আমাকে ফাদে ফেলে আইনি জটিলতা তৈরি করে আমার পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার জন্য এমনটি করেছেন। তখন আমি বিষয় সম্পর্কে সলিসিডর আইনজিবীর সাথে যোগাযোগ করে মামলা থেকে বাচার জন্য এবং গ্রীণকার্ড প্রাপ্তির জন্য পরামর্শ চাই। এই ফাকে আমার ব্যাবসায়িক অংশিদার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক পেজ) পোষ্ট করেন যে আমি নাকি ব্যবসায়িক প্রতিষ্টান থেকে অর্থ আত্মসাতৎ করেছি এবং আমাকে ধরিয়ে দিলে সংবাদ দাতাকে ৩০ হাজার ইউএস ডলার পুরষ্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষনা দেন। উক্ত মিথ্যা অভিযোগ শুনে আমি আরও পেরেশান হয়ে যাই এই কারণে যে, ব্যবসায়িক অংশিদারের সাথে পূর্বে আমার কোন প্রকার চুক্তিপত্র হয়নি এবং সরল বিশ্বাসে মোট ১৮ মাসের বাবদ টাকা বুঝে না পাওয়া সহ ব্যবসার জন্য লেনদেনকৃত টাকার লিখিত কোন প্রমাণ পত্র না রাখায় আমি মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পরি। এও শুনতে পাই যে, আমার পাওনা টাকা তিনি পরিশোধ না করার জন্য আমাকে খুনি ভাড়া করে আমার প্রাণ নাশের ষরযন্ত্র করছেন। আমি নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটাল ডিবাইস মুঠো ফোনটি পরিত্যাগ করি। অবশেষে কোন উপায়ান্তর না পেয়ে এক কাপড়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করি। দেশে এসে জানতে পারি কয়েকটি আঞ্চলিক ও সামাজি যোগাযোগ মাধ্যমে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে আমার সিমাহীন আত্মসম্মানের হানি ঘটান। আমি সকল মিথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তাহার বিরুদ্ধে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাবরে ব্যবস্থা গ্রহনের আকুল আবেদন জানাচ্ছি। একি সাথে আমার পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য সবিনয় অনুরুধ করছি। বিশেষ ভাবে উল্লেখ যে, প্রবাসি ব্যবসায়িদের এসব অপতৎপরতা ও অর্থ আত্মসাতৎ কৌশলের ফাদ সকলকে এড়িয়ে চলা এবং সচেতন থাকার জন্য আহবান জানাচ্ছি। আরও উল্লেখ যে, আমার এক বন্ধু, যিনি বিগত প্রায় ২বৎসর আগেই দেশে চলে এসেছিলেন, যার বাড়ি মৌলভিবাজার জেলায় অবস্থিত। তাকেও আমার সাথে জরিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন যা সম্পূর্ন মিথ্য ও ভিত্তিহীন।
এরশাদুল হক–সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 

























