◼️মো: জসিম–দিনাজপুর জেলা
দিনাজপুরের বিরলে বসতবাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন মো. মোশারফ হোসেন (৩৫), মোকারম হোসেন (৪৮), মনতাজ আলী (৬২) ও মোজাম্মেল হোসেন (৫৫)।
ভুক্তভোগী খতের আলী মঙ্গলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি শিকারপুর গ্রামের মৃত টুয়াল মোহাম্মদের ছেলে।
খতের আলী জানান, ২৭ জুলাই সকালে মোশারফ হোসেন তার বাড়ির লোহার গেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। এসময় ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে তিনি খবর পেয়ে বাড়িতে আসলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালে পারিবারিক বণ্টন দলিল অনুযায়ী ১৫ শতক জমির মালিক হন তিনি। এরপর তিনি ১০ শতক জমি শিকারপুর জামে মসজিদে দান করে দেন এবং বাকি ৫ শতক জমিতে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। জমির চারপাশে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং টিনসেট ঘর নির্মাণ করে তিনি ও তার ছেলে বসবাস করছেন। সম্প্রতি সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা জমিটি নিজেদের দাবি করে গেটে তালা মেরে দেয়।
খতের আলীর দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষও মুখ খুলতে সাহস পায় না। তিনি একজন নিরীহ মানুষ হিসেবে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মঙ্গলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডল বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে মারামারির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষই জমিটি নিজেদের দাবি করছেন। আমরা বাদীকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
অভিযুক্তদের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব না হলেও মোশারফ হোসেনের মা জানান, জমিটি নিয়ে আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে এসেছে। তবে রায়ের কাগজপত্র দেখাতে তিনি রাজি হননি এবং বলেন, কোর্টে গেলে কাগজপত্র দেখা যাবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার