আল আমিন–নরসিংদী◼️
নরসিংদীর মাধবদীর চরদাউদপুর (নাগরারহাট) এলাকায় ফের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব বিরোধের জেরে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মামুন ও তার পরিবার সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা শুধু লুটপাট চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি—ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরে রক্তাক্ত করেছেন পরিবারের সদস্যদের।
আহতদের মধ্যে একজন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, বাকি দুজনও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে। মামুনের মালিকানাধীন ‘এম এম মুন’ কার ওয়াশে অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, মো. ইমতিয়াজ আহমদ মামুনসহ ১৬ জন চিহ্নিত এবং ৪–৫ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, রামদা ও পিস্তল নিয়ে কার ওয়াশে ঢুকে পড়ে। তারা দুটি পালসার মোটরসাইকেল, কম্প্রেশার ও কার ওয়াশ মেশিনসহ প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মালামাল ভাঙচুর করে।
হামলার সময় কর্মচারী মো. সুলতান মিয়া বাধা দিলে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার চিৎকারে এগিয়ে আসেন মামুনের পিতা মো. মিজানুর রহমান (৬৫) ও ভগ্নিপতি মো. লতিফ মিয়া (৩৮)। মিজানুর রহমানের ডান হাতের আঙুল কেটে যায়, আর লতিফ মিয়াকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে পিঠ ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
পরে হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ঢুকে ৭–৮টি কক্ষ ভাঙচুর করে, স্টিলের আলমারি ভেঙে প্রায় ৪.৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও জমি কেনার জন্য রাখা ১৭ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
আহতদের মধ্যে সুলতান মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রথমে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর নিরাপত্তা ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. মিজানুর রহমান। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিবার নিয়ে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার