স্বাস্থ্য ডেস্ক:
আধুনিক নারীর সাজগোজে লিপস্টিক যেন এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। ঠোঁট রাঙিয়ে তোলার এই প্রসাধনীটি প্রতিদিনের ব্যবহারে আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও অজান্তেই শরীরের ভিতরে ঢুকছে নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক। গবেষণা বলছে, বাজারে পাওয়া অনেক লিপস্টিকে রয়েছে সীসা (lead), পারদ (mercury), ক্যাডমিয়াম ও এমন কিছু কেমিক্যাল, যা দীর্ঘমেয়াদে হতে পারে ভয়ংকর ক্ষতির কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন নারী প্রতিদিন গড়ে ২৪ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লিপস্টিক গিলে ফেলেন—বুঝে বা না বুঝে। সেই লিপস্টিকে থাকা বিষাক্ত উপাদান ধীরে ধীরে শরীরে জমা হয়ে যেতে পারে লিভার, কিডনি ও হাড়ে। এমনকি স্তন ক্যান্সার, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং গর্ভধারণে জটিলতার আশঙ্কাও বাড়ায় এসব রাসায়নিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ শতাংশ সৌন্দর্য পণ্যে এমন উপাদান থাকে, যা মানুষের ত্বক শোষণ করে এবং রক্তে মিশে যায়। লিপস্টিক তার অন্যতম। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের রঙ কালো হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটার প্রবণতা এবং অ্যালার্জি তো আছেই; এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
তবে ভয় না পেয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ভালো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করা, সীসা-মুক্ত পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং ঘরোয়া উপায়ে ঠোঁট রাঙানোর অভ্যাস গড়ে তোলার।
সৌন্দর্য চর্চা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। তবে তার আগে প্রয়োজন নিরাপত্তা। নয়তো, সুন্দর ঠোঁটের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে দীর্ঘদিনের অসুস্থতা। সতর্ক হোন আজ থেকেই—কারণ প্রতিদিনের সাজে যেন না থাকে ক্ষতির ছোঁয়া।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার