নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পুকুরে পরিণত হয়। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে টিফিনের সময়সহ অন্যান্য অবসরে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মাঠের এই বেহাল দশার কারণে একদিকে যেমন শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশে সামান্য মেঘ জমলেই বা অল্প বৃষ্টিপাত হলেই বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে পানি জমে থাকে। দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় মাঠে নামতে গিয়ে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপন কুমার জানান, “সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় বাইরে বের হতে পারে না। তাদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা সবসময় উদ্বেগের মধ্যে থাকি। দ্রুত এই মাঠের জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
স্থানীয় অভিভাবক আব্দুর রহমান বলেন, “শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। অথচ মাঠের এই অবস্থার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসেও বাচ্চারা বন্দি সময় কাটায়। আমরা বিদ্যালয়ের মাঠের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই মাঠে পানি জমে যায়। গত রাতের টানা বৃষ্টির পর পুরো মাঠ এখন পানির নিচে। এতে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার চলাচলেই চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন জানাচ্ছি, দ্রুত মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে শিশুদের জন্য খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।”
বিদ্যালয়ের মাঠটি দ্রুত সংস্কার এবং একটি কার্যকর ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, মাঠটি ব্যবহারের উপযোগী করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার