Dhaka ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

ইবিতে শিক্ষক–শিবির নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) লোকপ্রশাসন বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ছাত্রশিবির নেতাদের সঙ্গে এক শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

শিডিউল অনুযায়ী ওই সময়ে ক্লাস নিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান, “তোমরা কারা, এখানে কেন এসেছো?” এ সময় নেতাকর্মীরা জানান, বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই তারা নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিবির নেতাকর্মীরা নবীনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রফেসর মতিনুর রহমান এসে ক্লাসে উপস্থিতদের ‘গেট আউট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। নেতাকর্মীরা জানান, কথা শেষ করেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শিক্ষক জানান, “এটা সভাপতির বিষয় নয়, আমার ক্লাসের সময়।” এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে তিনি ক্লাস বাতিল করে চলে যান।

পরে করিডোরে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলামও ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানেও শিবির নেতাদের সঙ্গে মতিনুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। শিবির নেতারা বলেন, শিক্ষক তাদের ‘অপমানজনক’ভাবে বের করে দিয়েছেন।

এক শিবির নেতা বলেন, “আমরা ৭-৮ জন গিয়েছিলাম। সভাপতির অনুমতি নিয়েই নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। জানলে যে ক্লাস আছে, আমরা যেতাম না।” তিনি জানান, বাইরে বের হওয়ার পরও শিক্ষকের সঙ্গে কিছু কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে সভাপতির কক্ষে বৈঠকে মীমাংসা করা হয়।

দুপুর ১টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রফেসর মতিনুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, “আমি জানতাম না ওই সময়ে কারো ক্লাস ছিল। জানলে অনুমতি দিতাম না। বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে, পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।”

প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রসংগঠন কথা বলতে পারে, তবে প্রক্রিয়া মেনে করতে হবে। সভাপতির উচিত ছিল অনুমতি দেওয়ার আগে ক্লাস শিডিউল দেখা। যদিও পরে তারা ক্ষমা চেয়েছে, তবু আচরণটি একজন শিক্ষকের প্রতি প্রত্যাশিত ছিল না।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

ইবিতে শিক্ষক–শিবির নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ

আপডেটের সময়: ১১:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) লোকপ্রশাসন বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ছাত্রশিবির নেতাদের সঙ্গে এক শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

শিডিউল অনুযায়ী ওই সময়ে ক্লাস নিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান, “তোমরা কারা, এখানে কেন এসেছো?” এ সময় নেতাকর্মীরা জানান, বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই তারা নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিবির নেতাকর্মীরা নবীনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রফেসর মতিনুর রহমান এসে ক্লাসে উপস্থিতদের ‘গেট আউট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। নেতাকর্মীরা জানান, কথা শেষ করেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শিক্ষক জানান, “এটা সভাপতির বিষয় নয়, আমার ক্লাসের সময়।” এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে তিনি ক্লাস বাতিল করে চলে যান।

পরে করিডোরে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলামও ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানেও শিবির নেতাদের সঙ্গে মতিনুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। শিবির নেতারা বলেন, শিক্ষক তাদের ‘অপমানজনক’ভাবে বের করে দিয়েছেন।

এক শিবির নেতা বলেন, “আমরা ৭-৮ জন গিয়েছিলাম। সভাপতির অনুমতি নিয়েই নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। জানলে যে ক্লাস আছে, আমরা যেতাম না।” তিনি জানান, বাইরে বের হওয়ার পরও শিক্ষকের সঙ্গে কিছু কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে সভাপতির কক্ষে বৈঠকে মীমাংসা করা হয়।

দুপুর ১টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রফেসর মতিনুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, “আমি জানতাম না ওই সময়ে কারো ক্লাস ছিল। জানলে অনুমতি দিতাম না। বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে, পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।”

প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রসংগঠন কথা বলতে পারে, তবে প্রক্রিয়া মেনে করতে হবে। সভাপতির উচিত ছিল অনুমতি দেওয়ার আগে ক্লাস শিডিউল দেখা। যদিও পরে তারা ক্ষমা চেয়েছে, তবু আচরণটি একজন শিক্ষকের প্রতি প্রত্যাশিত ছিল না।”