
খাইরুল ইসলাম–ডেস্ক রিপোর্ট◼️
যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান গ্রহণকারীদের জন্য নতুন করে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৬ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যেসব দেশ ব্রিকসের আমেরিকাবিরোধী নীতির পক্ষে অবস্থান নেবে, তাদের ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।” তার ভাষায়, এই নীতিতে কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারি এমন এক সময় এল, যখন ব্রিকস জোট একটি স্বাধীন আর্থিক কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বৈশ্বিক মুদ্রাবিনিময় ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো, যা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা ১১। পুরনো সদস্য—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি ২০২৩ সালে যুক্ত হয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই দেশগুলো শুধু অর্থনৈতিক নয়, জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বে একটি বিশাল শক্তি।
চলতি সপ্তাহে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিকস নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে বৈশ্বিক বাণিজ্য সংকট এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্মিলিত বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ নীতিকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এছাড়া সম্প্রতি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপেরও তীব্র সমালোচনা করে ব্রিকস। তাদের মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
বিশ্ব রাজনীতির এই নতুন টানাপোড়েনকে “ঠান্ডা বাণিজ্য যুদ্ধের” সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ট্রাম্প যদি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তবে ব্রিকসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ব্রিকসের বিকল্প আর্থিক কাঠামো গড়ার প্রচেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বাণিজ্যনীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘বাড়তি শুল্ক’ আর ‘আন্তর্জাতিক নেতৃত্বে পালাবদল’।
প্রতিবেদকের নাম 
















