Dhaka ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

মিনিকেট চালের নামে প্রতারণা: সরকারি নীরবতায় সক্রিয় সিন্ডিকেট

অনুসন্ধান ডেস্ক◾

 

দেশজুড়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলছে চাল ব্যবসার এক অপসংস্কৃতি—নাম ‘মিনিকেট’। বাস্তবে এমন কোনো ধানের জাতের অস্তিত্ব না থাকলেও ‘মিনিকেট’ নামে এক ধরণের চকচকে সরু চাল বছরের পর বছর বিক্রি করে আসছে করপোরেট কোম্পানিগুলো। এতে যেমন প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও।

 

জাতীয় ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাবুবাজার, মোহাম্মদপুর, কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন চালের হাটে ‘মিনিকেট’ নামেই সবচেয়ে বেশি চাল বিক্রি হচ্ছে। অথচ গবেষণা বলছে, মিনিকেট কোনো বৈজ্ঞানিক জাত নয়, এটি মূলত ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধান থেকে তৈরি। এগুলোকে আধুনিক রাইস মিলের মাধ্যমে চেহারা বদলে চকচকে করে তোলা হয়।

 

চালের এ ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণে শুধু নামের ভেলকিই নয়, বরং চলে যায় চালের পুষ্টিগুণ। খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ ইউনিট (এফপিএমইউ)-এর এক গবেষণায় বলা হয়, রাইস মিলিংয়ের মাধ্যমে চাল থেকে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ হারিয়ে যায়। এতে চাল শুধু চোখ ধাঁধানো হয়, স্বাস্থ্যের জন্য কোনো খাদ্যমান থাকে না।

 

২০২১ সালের ২১ নভেম্বর উচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল প্রস্তুতকারী রাইস মিলারদের তালিকা দিতে। চার মাসের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন চেয়েছিল আদালত। কিন্তু হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা সেই রিটের কোনো জবাব দেয়নি বিগত সরকার।

 

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, “সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আবারও আদালতে লড়ব।”

 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “বাজার সিন্ডিকেটের চাপে বিগত সরকারের নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর হয়নি। প্রকাশ্যে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে, অথচ সরকার নীরব।”

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে খাদ্য বিভাগের মূল দায়িত্ব চালের মান নিয়ন্ত্রণ করা।

 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

মিল মালিকরাও স্বীকার করছেন, বাজারে মিনিকেটের চাহিদার চাপেই তারা অন্য জাতের চালকে মিনিকেট বানিয়ে বিক্রি করেন। এভাবে কম দামে কেনা চাল বেশি দামে বিক্রি করে মিল মালিকেরা কোটিপতি হচ্ছেন, আর প্রতিদিন ঠকছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

 

সরকারের একাধিক কমিটি ও গবেষণা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হয়নি ‘মিনিকেট’ চাল নিয়ে। ফলে মিল মালিকরা চালের গায়ে ‘মিনিকেট’ নাম বসিয়ে ভোক্তাদের ভুলিয়ে যাচ্ছেন। এই চক্র বন্ধে প্রয়োজন দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ, সচেতন ভোক্তা এবং কার্যকর নীতিমালা।

 

সতর্ক না হলে প্রতারণার এই চকচকে ফাঁদে প্রতিদিনই পুড়বে সাধারন মানুষের পকেট।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

মিনিকেট চালের নামে প্রতারণা: সরকারি নীরবতায় সক্রিয় সিন্ডিকেট

আপডেটের সময়: ০৪:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

অনুসন্ধান ডেস্ক◾

 

দেশজুড়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলছে চাল ব্যবসার এক অপসংস্কৃতি—নাম ‘মিনিকেট’। বাস্তবে এমন কোনো ধানের জাতের অস্তিত্ব না থাকলেও ‘মিনিকেট’ নামে এক ধরণের চকচকে সরু চাল বছরের পর বছর বিক্রি করে আসছে করপোরেট কোম্পানিগুলো। এতে যেমন প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও।

 

জাতীয় ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাবুবাজার, মোহাম্মদপুর, কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন চালের হাটে ‘মিনিকেট’ নামেই সবচেয়ে বেশি চাল বিক্রি হচ্ছে। অথচ গবেষণা বলছে, মিনিকেট কোনো বৈজ্ঞানিক জাত নয়, এটি মূলত ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধান থেকে তৈরি। এগুলোকে আধুনিক রাইস মিলের মাধ্যমে চেহারা বদলে চকচকে করে তোলা হয়।

 

চালের এ ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণে শুধু নামের ভেলকিই নয়, বরং চলে যায় চালের পুষ্টিগুণ। খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ ইউনিট (এফপিএমইউ)-এর এক গবেষণায় বলা হয়, রাইস মিলিংয়ের মাধ্যমে চাল থেকে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ হারিয়ে যায়। এতে চাল শুধু চোখ ধাঁধানো হয়, স্বাস্থ্যের জন্য কোনো খাদ্যমান থাকে না।

 

২০২১ সালের ২১ নভেম্বর উচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল প্রস্তুতকারী রাইস মিলারদের তালিকা দিতে। চার মাসের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন চেয়েছিল আদালত। কিন্তু হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা সেই রিটের কোনো জবাব দেয়নি বিগত সরকার।

 

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, “সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আবারও আদালতে লড়ব।”

 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “বাজার সিন্ডিকেটের চাপে বিগত সরকারের নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর হয়নি। প্রকাশ্যে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে, অথচ সরকার নীরব।”

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে খাদ্য বিভাগের মূল দায়িত্ব চালের মান নিয়ন্ত্রণ করা।

 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

মিল মালিকরাও স্বীকার করছেন, বাজারে মিনিকেটের চাহিদার চাপেই তারা অন্য জাতের চালকে মিনিকেট বানিয়ে বিক্রি করেন। এভাবে কম দামে কেনা চাল বেশি দামে বিক্রি করে মিল মালিকেরা কোটিপতি হচ্ছেন, আর প্রতিদিন ঠকছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

 

সরকারের একাধিক কমিটি ও গবেষণা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হয়নি ‘মিনিকেট’ চাল নিয়ে। ফলে মিল মালিকরা চালের গায়ে ‘মিনিকেট’ নাম বসিয়ে ভোক্তাদের ভুলিয়ে যাচ্ছেন। এই চক্র বন্ধে প্রয়োজন দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ, সচেতন ভোক্তা এবং কার্যকর নীতিমালা।

 

সতর্ক না হলে প্রতারণার এই চকচকে ফাঁদে প্রতিদিনই পুড়বে সাধারন মানুষের পকেট।