Dhaka ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
২১ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ই-অরেঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা মাশুকুর রহমান গ্রেফতার সামান্য বৃষ্টিতেই পুকুর গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা যেই কলেজের ছাত্র, আজ সেই কলেজেরই অধ্যক্ষ দিনাজপুরে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন ড্যাব মহাসচিব ১১ বছর পর ঐতিহাসিক রায়: ধর্ষকের যাবজ্জীবন, সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মাদকসহ আটক দুই যুবকের কারাদণ্ড বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিদায় ও নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেল নরসিংদীর জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসা কাহালুতে পুকুরে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু শেরেবাংলা নগরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এআই ক্যামেরা চালু, স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে মামলা

যেই কলেজের ছাত্র, আজ সেই কলেজেরই অধ্যক্ষ

ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান ও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন প্রফেসর এ কে এম ওবায়দুল হক। গত ১১ জুন, ২০২৬ খ্রি. রোজ বৃহস্পতিবার মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ অনুগ্রহ স্মরণ করে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার ( ৩০ জুন), বিকাল ৩টায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নতুন অধ্যক্ষ মহোদয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ সেন্টু ও সাংবাদিক শেখ জুনায়েদ।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে কলেজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নতুন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন,

“আমি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলাম। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ারই সন্তান, সদর উপজেলার সুলতানপুর আমার গ্রামের বাড়ি। যেহেতু এই বিদ্যাপীঠের ছাত্র ছিলাম এবং এখানেই আমার জন্ম, তাই এই কলেজের প্রতি আমার একটি বিশেষ মায়া, বন্ধন ও আন্তরিকতা কাজ করে। এটি আমার ইমোশন ও শান্তির জায়গা। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার পর স্রষ্টার অশেষ দয়ায় আজ একই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই কলেজকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু কাজের স্মৃতি ও ভালোবাসা রেখে যেতে চাই।”

প্রফেসর এ কে এম ওবায়দুল হক জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলায় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কলেজের বর্তমান সুনাম ও মেধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“আমাদের কলেজে অনেক মেধাবী শিক্ষকরা আছেন, যাঁদের শিক্ষার আলো আজ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে। বুয়েট, চুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে—এটা আমাদের পরম গৌরব। আমি চাই আমাদের জেলার শ্রেষ্ঠ সন্তানরা আমাদের জেলা এবং এই কলেজের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল হোক। আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের যেন মূল ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস বা প্রাইভেট কোচিং করতে না হয়, সেজন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতি প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যেন কলেজের নির্দিষ্ট ক্লাসের ওপর ভরসা রেখেই ভালো ফলাফলের আস্থা রাখতে পারে, সেই আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বিশেষ নির্দেশনা
আসন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সিট নাম্বার, বিলবোর্ডসহ সহকারী ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা তাদের সহযোগিতা পাবে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যে সকল ছাত্র-ছাত্রী বা পরীক্ষার্থী পর্দা (হিজাব/নিকাব) পরিধান করে, তাদের পরীক্ষার হলে চেকিংয়ের নামে যেন কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়, সে ব্যাপারে শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে শালীনতা বজায় রেখে চেকিং সম্পন্ন করা হবে।”

পরিশেষে, এই গৌরবময় পথচলায় এবং অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনে কলেজের সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক সমাজসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ওবায়দুল হক।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

২১ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ই-অরেঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা মাশুকুর রহমান গ্রেফতার

যেই কলেজের ছাত্র, আজ সেই কলেজেরই অধ্যক্ষ

আপডেটের সময়: ০৯:০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান ও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন প্রফেসর এ কে এম ওবায়দুল হক। গত ১১ জুন, ২০২৬ খ্রি. রোজ বৃহস্পতিবার মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ অনুগ্রহ স্মরণ করে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার ( ৩০ জুন), বিকাল ৩টায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নতুন অধ্যক্ষ মহোদয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ সেন্টু ও সাংবাদিক শেখ জুনায়েদ।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে কলেজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নতুন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন,

“আমি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলাম। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ারই সন্তান, সদর উপজেলার সুলতানপুর আমার গ্রামের বাড়ি। যেহেতু এই বিদ্যাপীঠের ছাত্র ছিলাম এবং এখানেই আমার জন্ম, তাই এই কলেজের প্রতি আমার একটি বিশেষ মায়া, বন্ধন ও আন্তরিকতা কাজ করে। এটি আমার ইমোশন ও শান্তির জায়গা। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার পর স্রষ্টার অশেষ দয়ায় আজ একই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই কলেজকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু কাজের স্মৃতি ও ভালোবাসা রেখে যেতে চাই।”

প্রফেসর এ কে এম ওবায়দুল হক জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলায় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কলেজের বর্তমান সুনাম ও মেধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“আমাদের কলেজে অনেক মেধাবী শিক্ষকরা আছেন, যাঁদের শিক্ষার আলো আজ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে। বুয়েট, চুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে—এটা আমাদের পরম গৌরব। আমি চাই আমাদের জেলার শ্রেষ্ঠ সন্তানরা আমাদের জেলা এবং এই কলেজের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল হোক। আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের যেন মূল ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস বা প্রাইভেট কোচিং করতে না হয়, সেজন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতি প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যেন কলেজের নির্দিষ্ট ক্লাসের ওপর ভরসা রেখেই ভালো ফলাফলের আস্থা রাখতে পারে, সেই আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বিশেষ নির্দেশনা
আসন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সিট নাম্বার, বিলবোর্ডসহ সহকারী ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা তাদের সহযোগিতা পাবে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যে সকল ছাত্র-ছাত্রী বা পরীক্ষার্থী পর্দা (হিজাব/নিকাব) পরিধান করে, তাদের পরীক্ষার হলে চেকিংয়ের নামে যেন কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়, সে ব্যাপারে শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে শালীনতা বজায় রেখে চেকিং সম্পন্ন করা হবে।”

পরিশেষে, এই গৌরবময় পথচলায় এবং অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনে কলেজের সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক সমাজসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ওবায়দুল হক।