
মুহাম্মদ আরিফ,স্টাফ রিপোর্টার,ভোলা: ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দুইটি লিফট এর মধ্যে একটি লিফট গত ১মাস ধরে নষ্ট থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে রোগীরা। এদিকে লিফট নষ্ট থাকার কারণে হাসপাতাল ভবনে উঠা নামা করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) হাসপতালে গিয়ে এমন দৃশ্য ও তথ্য পাওয়া যায়।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৭ তলা ভবনের ২টি লিফটের মধ্যে ১টি লিফট দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পারভিন বেগম বলেন, ৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে সুস্থ হয়ে ডাক্তারের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু এ বয়সে ৫ তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে গিয়ে আবার অসুস্থ বোধ করছি।
রোগীর স্বজন আয়েশা সিদ্দিকা জানান, তাঁর বাবাকে ৫ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রেখেছেন। বারবার উঠানামা করতে গিয়ে তিনি একই বিড়ম্বনায় পড়েন এবং সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে হাঁপিয়ে ওঠেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক বলেন, লিফটে ভিড় থাকায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও উঠতে পারিনি। পরে পায়ে হেঁটে ৫ তলা ভবনের রোগী দেখে এসেছি। একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ সিয়াম, তিনি বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫ তলায় যেতে গিয়ে লিফটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। লিফটে গিয়ে ভিড় ঠেলে উঠতে না পেরে মাকে কোলে করে ওঠাতে হয়েছে, যা বেশ কষ্টকর ছিল।
১টি লিফট নষ্ট থাকায় অপর লিফটের ওপর চাপ পড়ছে। সুমাইয়া নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, মাকে নিয়ে ১০ দিন হলো হাসপাতালে। এ সময় লিফট নষ্ট থাকায় দিনে খাবার, ঔষুধ সহ ৮-১০ বার উঠতে-নামতে গিয়ে প্রচণ্ড রকম কষ্ট পেতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি লিফটি দ্রুত মেরামত করে দেয় তাহলে আমরা দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবো।
লিফট অপারেটর রুবেল জানান, একটি লিফট বন্ধ থাকার কারণে আরেকটি লিফটের ওপর চাপ বাড়ছে ১০ জন করে ওঠার কথা সেখানে উঠছে ১৫ থেকে ২০ জন। কেউ আমার কথা শুনে না। রোগী নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতাল ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ সুফিয়ান রুস্তম জানিয়েছে, লিফট দুটা গণপূর্ত বিভাগ তদারকি করে। সমস্যা সমাধানের জন্য গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে।
প্রতিবেদকের নাম 













