◼খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) একাধিক স্থাপনা নিলামকে ঘিরে কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়ম ও ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও যুবদল সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রোববার(৩ আগষ্ট) ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর আগের রাতেই একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক সিডিউল নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা জমা দিতে চাননি, তাদের জন্য কেডিএ ভবনের আশপাশে পাহারা বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
কেডিএ সূত্র জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড থেকে রায়েরমহল পর্যন্ত সংযোগ সড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা, গাছপালা ও ভবন নিলামের দরপত্র গত ৭ জুলাই প্রকাশ করা হয়। মোট ৪টি অংশে বিভক্ত এ দরপত্রের জন্য ৮৭টি সিডিউল বিক্রি হয়। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক অংশে ৪টি, খ অংশে ৪টি, গ অংশে ৬টি এবং ঘ অংশে ৭টি সিডিউল জমা পড়ে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, শনিবার রাতে কেডিএ ভবনের ভেতরে বসে দরপত্র ভাগাভাগির বৈঠক হয়। সিডিউল জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কিছু ব্যবসায়ীকে। বলা হয়, কাজটি পেলে লাভের একটি অংশ শেয়ার করা হবে। রাত ১০টা পর্যন্ত চলে দর-কষাকষি। রোববার দরপত্র জমা দেওয়ার সময় পর্যন্ত ভবনে সতর্ক প্রহরা দেখা যায়।
অভিযোগে নাম উঠে এসেছে সোনাডাঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, যুবদলের সাবেক নেতা সুলতান মাহমুদ সুমন ও আবদুর রহমান, ছাত্রদলের সাবেক নেতা মিনহাজ্জামান তাজ, বিএনপির ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভুট্টো এবং নগরীর শেখপাড়ার কয়েকজন ব্যবসায়ীর। অভিযোগ রয়েছে, কেডিএর কিছু কর্মচারীও তাদের সহায়তা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মোর্তুজা আল মামুন। তিনি জানান, “সিডিউল জমা দিতে কেউ বাঁধা পেয়েছেন বা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। দরপত্র বাক্স খোলার সময় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা সবকিছু দেখেছেন। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এ ঘটনাকে ঘিরে খুলনার ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিলামপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও অবাধ করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার