গোলাম রব্বানী–
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার মূল চালিকাশক্তি এই কৃষক সমাজ। তাই কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে তালা উপজেলার কৃষকরা এবার আমন ধান চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন সারের ডিলার পয়েন্ট ঘুরে মনিটরিং করছেন। তিনি খোঁজ নিচ্ছেন—কোনো কৃষক সারের সংকটে পড়ছেন কিনা, কিংবা কেউ সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সার বিক্রি করছে কিনা।
তিনি জানান, তালা উপজেলায় এ বছর ১০ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ইউরিয়া, টিএসপি বা এমওপি সারের সংকট দেখা যায়নি। বরং উপজেলা জুড়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, “কোনো ডিলার যদি অসাধুভাবে বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। সবকিছুই সঠিকভাবে চলছে।”
এ সময় পাটকেলঘাটার লালচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ বছর আমন ধান চাষে সময়মতো সার ও কীটনাশক পেয়েছি। কোনো সংকট শুনিনি, বা কারও কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়নি। তিন বিঘা জমিতে চাষ করেছি, এবার বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
অন্যদিকে কুমিরা ইউনিয়নের কৃষক মোবারক আলী জানান, “১৪ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ বা কীটনাশক—কোনোটিরই সংকট নেই। যা দরকার, সময়মতো পেয়েছি। এখন আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন রেকর্ড পরিমাণ হবে।”
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন আরও বলেন, “চলতি মৌসুমে আমরা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ রাখতে পেরেছি। তাই এবার আমন ধানে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি আর মাঠে সোনালি ধানের স্বপ্ন—এই দুইয়ে ভরপুর তালা উপজেলা। কৃষকরা বলছেন, সরকারি মনিটরিং ও সময়মতো সার সরবরাহ থাকলে ভবিষ্যতেও এভাবে কৃষিতে সমৃদ্ধ হবে দেশ।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার