
হারুন ওর রশিদ,মানিকগঞ্জ: 'বিবাহ' ইসলামের নীতিতে মহান কাজ কিন্তু নিকৃষ্ট বৈধ কাজ হল তালাক । বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাল্যবিবাহ । বাংলাদেশ সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান সহ এনজিও প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে থাকেন । সুশীল সমাজের তালিকায় প্রথমে আছেন শিক্ষকগণ ।সুশীল সমাজকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করছে অনেক লোভী ব্যক্তিবর্গ ।
গতকাল ২৬শে জুন ২০২৪ইং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়ন এর কুমুল্লী গ্রামে বাল্যবিবাহের অভিযোগ পাওয়া যায় ।
স্থানীয় সরকার ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (সম্রাট) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, " শুনেছি বিয়ে হচ্ছে আমাকে দাওয়াতও দিয়েছে তবে, এটা যে বাল্যবিবাহ এ সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই ।"
অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিবাহটি সম্পন্ন করেছেন ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান ।
তথ্য নিয়ে জানা যায়, বরুন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান তার নিজ স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাম্মদ আফসানা আক্তার (১৫) এর বিবাহ সম্প্রদান করেছেন । যেখানে কাজীর ভূমিকায় তিনি নিজেই । এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সততা স্বীকার করেন ।
১৮ বছরের নিচে কোন মেয়েকে বিবাহ দেওয়া বাংলাদেশ আইন বিধিতে দণ্ডনীয় অপরাধ জানা সত্ত্বেও তিনি অসাধু টাকার লোভে এমনটা কাজ করেছে বলে জানা যায় । এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, "কাগজপত্র সবকিছু ঠিকঠাক করে বিবাহ দেওয়া হয়েছে । আমি সকল কাগজ নিজে ঠিক করে দিয়েছি ।"
কাগজপত্র কোথা থেকে ঠিক করা হয়েছে ? জিজ্ঞাসা করলে তিনি নীরবতা পালন করেন ।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের কুমুল্লী গ্রামে মেয়ের বাড়ি গেলে তারা সাংবাদিকদের সাথে এসব বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান । পাশের গ্রাম স্বল্পানন্দপুর ছেলের বাড়িতে গেলেও তারা সাংবাদিকদের সামনে আসতে অসম্মতি জানান ।
স্থানীয় স্বনামধন্য 'বরুন্দি উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়, বর্তমান বিবাহিত মোসাম্মৎ আফসানা আক্তারের বয়স অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ সার্টিফিকেট অনুসারে ১৬ বছর ।
তথ্য নিয়ে জানা যায়, মোসাম্মৎ আফসানা আক্তারের জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে বিবাহ সম্পন্নের তথ্যপত্র বানোয়াট ও নকল ।
এ বিষয়ে বরুন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক জনাব আমিনুর রহমান (সেলিম) সাহেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, "আমার স্কুলে অনেক ছাত্র-ছাত্রী । স্কুল বন্ধের মুহূর্তে তাদের খোঁজখবর নেওয়াটা সম্ভব হয়নি । এমন অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে আমি অবহিত নই । বাল্যবিবাহ হল সামাজিক ব্যাধি । আমরা কখনো বাল্যবিবাহ কে প্রশ্রয় দেই না । আমাদের আশেপাশে কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে আমরা তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়ে থাকি । আমার স্কুল শিক্ষক যদি জড়িত থাকে তাহলে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।"
তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কলম আরো শক্ত করার আহ্বান জানান ।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার