
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অফিস চলাকালীন সময়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক অনুপস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। কার্যালয়ে ফ্যান ও লাইট সচল থাকলেও দায়িত্বে থাকা সাতজন কর্মকর্তার মধ্যে ছয়জনকেই কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।
আজ রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে জেলা কার্যালয়ে সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কার্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কক্ষের বাতি ও সিলিং ফ্যান সচল থাকলেও কক্ষগুলো সম্পূর্ণ জনশূন্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই কার্যালয়ে মোট সাতটি পদ থাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন কর্মচারী।
কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ছয়জনের মধ্যে তিনজন হলেন প্রথম সারির কর্মকর্তা। তারা হলেন— উপপরিচালক নাজিম হোসেন শেখ, সহকারী পরিচালক খালিদ ইবনে সাদেক এবং পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান। বাকি তিনজন কর্মচারীর মধ্যে রয়েছেন— নমুনা সংগ্রহকারী শাহাদাৎ হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. ইসারুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী মো. রাসেল হুসাইন।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান মুঠোফোনে দাবি করেন যে তিনি একটি বিশেষ অভিযানে বাইরে আছেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার মজলিশপুর ঋষিপাড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অভিযান বা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না।
অফিস চলাকালীন সময়ে এমন গণ-অনুপস্থিতি এবং বিনা প্রয়োজনে বিদ্যুতের অপচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাইদ বলেন, " বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।"
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দায়িত্বহীনতা ও অনুপস্থিতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবৈধ ইটভাটা স্থাপন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা, জলাশয় ও পুকুর ভরাট এবং নিয়মবহির্ভূত রাইস মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে কি না— তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ছাড়পত্র প্রদান প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম, দায়িত্বহীনতা ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৮ পাতার দৈনিক পত্রিকা
ই-পেপার