
মোঃ উৎপল হোসেন– ঝিনাইদহ◾
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের দুটি লিফট টানা ১৫ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। ৮ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের উপরে-নিচে চলাচলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ, প্রসূতি ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ৯ তলায় আইসিইউ ইউনিট নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে লিফট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রোগী ও স্বজনদের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে মানবিক দিক বিবেচনায় না নেওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সবাইকে।
২০২১ সালে নির্মিত এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং ভর্তি থাকে প্রায় ৩০০ জন। লিফট না থাকায় অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন সিঁড়ি বেয়ে একাধিক তলা উঠতে, যার ফলে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগর বাথান গ্রামের হাকিম মিয়া জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ৬ তলায় উঠতে গিয়ে তার হার্টবিট বেড়ে যায়। তিনি দ্রুত লিফট চালুর দাবি জানান।
হামদহ এলাকার বিপ্লব জানান, লিফট বন্ধ থাকার কারণে কয়েক দিন আগেই দুই গর্ভবতী নারী সিঁড়িতেই সন্তান প্রসব করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, শরীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের ৫ তলায় উঠেছেন হেঁটে। এতে তার অবস্থার আরও অবনতি হয়।
কলাবাগান এলাকার মানোয়ার হোসেন বলেন, “গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে এসেছি, লিফট বন্ধ থাকায় ওপরে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় দ্রুত লিফট চালু না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দ রেজাউল ইসলাম বলেন, “৯ তলার নির্মাণকাজ চলমান থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে লিফট বন্ধ রাখা হয়েছে। আরও এক মাস এমনই থাকবে।”
জেলার সিভিল সার্জন শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, “দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা লিফট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছি। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
রোগী ও স্বজনরা বলছেন, চিকিৎসাসেবা নিতে এসে যেন অসুস্থতা আরও না বাড়ে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের জন্য নির্মিত হাসপাতালে জনগণের কষ্টই যেন বেশি না হয়—এমন দাবি এখন সাধারণ মানুষের।
প্রতিবেদকের নাম 













