
ডেস্ক রিপোর্ট◾
মুজিবনগর খ্যাত ছোট্ট সীমান্ত জেলা মেহেরপুরের প্রাণকেন্দ্র শহরের কলেজ মোড় এখন অবৈধ বালির ব্যবসায়ীদের দখলে। এই মোড়টি জেলার অন্যতম ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। নতুন বাস টার্মিনাল না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আগত পরিবহনগুলো এখানেই যাত্রী ওঠানামা করায়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের পাশেই দিনের পর দিন প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে চলছে বালির অবৈধ ব্যবসা।
এই মোড়ের পাশেই রয়েছে মেহেরপুর সরকারি কলেজ, কলেজ মোড় মসজিদ, পাবলিক টয়লেট, পুলিশ বক্স, দক্ষিণ পাশে রয়েছে পোস্ট অফিস, ফিলিং স্টেশন ও পৌরসভার কবরস্থান। পশ্চিম পাশে সুনামধন্য ইয়ারুল হোটেল, মিষ্টির দোকানসহ রয়েছে ছোট-বড় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখানেই তিনতলা একটি বাড়িতে বসবাস করছেন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, ১৪তম বিসিএস ক্যাডার মো. রফিকুল ইসলাম। তার ঘরের আসবাবপত্র প্রতিদিন ধুলাবালিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।
অবৈধভাবে রাখা বালি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। ঢাকা ও কুষ্টিয়া থেকে আগত বাসগুলো রাস্তার উপর দাঁড় করাতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ রাস্তার পাশ দখল করে রাখা হয়েছে বিশাল আকারের বালির স্তূপ। ফলে দেখা দিচ্ছে যানজট, হেঁটে চলাচলেও ভোগান্তি। ধুলাবালির কারণে আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বসে থাকা, খাবার পরিবেশন করা কিংবা কেনাকাটার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, বসবাসকারীরা বারবার সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ জানালেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান হয়নি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন এই ব্যবসা বন্ধ থাকলেও আবারও চালু হয়েছে বালির অবৈধ মজুত।
এমন অবস্থায় এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন— অবিলম্বে এই অবৈধ বালির ব্যবসা বন্ধ করে কলেজ মোড় এলাকাকে ধুলামুক্ত ও যানজটমুক্ত করা হোক।
জনগণের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নিক প্রশাসন। এই শহর আমাদের সবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সবার দায়িত্ব— তবে তা কার্যকর হতে পারে প্রশাসনিক সঠিক তদারকি ছাড়া নয়।
প্রতিবেদকের নাম 













