
আরেফিন ইসলাম–নীলফামারি জেলা◼️
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাথপাড়ায় স্বামী পরিমল দেবনাথ (৩০) নির্মমভাবে হত্যা করেছে তার স্ত্রী পপি দেবনাথকে (২২)। ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনার সাক্ষী দুই অবুঝ শিশু। মায়ের কোলে ঘুমানোর পরিবর্তে এখন তারা নিরবে কাঁদে—কোথায় মা?
স্থানীয়রা জানান, পরিমল দেবনাথ পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। মাঝে মাঝেই পপিকে নির্যাতন করত সে। সম্প্রতি সন্তানদের নিয়ে পপি বাবার বাড়িতে যান। সেখানেও স্বামীর সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বাড়ি ফিরে আসলে, ঐ দিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। এক পর্যায়ে বাইরে বের হতে চাইলে আবারও তাকে ধরে ঘরে এনে ধারালো লোহার বস্তু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। নিথর হয়ে পড়লে মুখে বিষ ঢেলে দেয় সে। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে পপি দেবনাথ।
স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পপির পুরো শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। পা, হাত, পিঠ এমনকি লজ্জাস্থানেও গুরুতর আঘাত ছিল। এমন নৃশংসতা পশুকেও হার মানায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই আসামি পরিমল পালিয়ে যায়। হত্যার প্রায় ১০ দিন পর সৈয়দপুর থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। তবে এমন ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের পরও কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে নিহত পপি দেবনাথের দুই ছেলে সন্তান—প্রিতম (৬) ও একটি দুধের শিশু— এখন সম্পূর্ণ অসহায়। কেউ জিজ্ঞেস করলে প্রিতম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বলে,
“ভাল আছি… মা নাই… মা’রে বাবা মারিফেলছে… মা’ক টিন দিয়া ঢাইকা রাখছে… মা আর দেখা যায় না।
স্থানীয়দের চোখেও পানি। মা হারানো দুই ভাইয়ের দিকে তাকালেই বুক ফেটে কান্না আসে।
তাদের একটাই প্রশ্ন—
মা কি আর কখনো ফিরে আসবে?
প্রতিবেদকের নাম 











