Dhaka ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে কী করবেন: যা জানা প্রয়োজন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ২০৭ সময় দেখুন

◼️তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক

 

বাংলাদেশে পুলিশ গ্রেফতার করলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রেফতারের মুহূর্তে শান্ত থাকা ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রেফতারের সময় প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি বা পালানোর চেষ্টা করা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। পুলিশের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলুন এবং জানুন কেন আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশকে গ্রেফতারের সময় আপনার কাছে স্পষ্টভাবে কারণ জানাতে হয়। শুধু মৌখিকভাবে ‘উপরের নির্দেশে’ গ্রেফতার করা আইনসম্মত নয়।

গ্রেফতারের সময় জানতে হবে, আপনার নামে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কি না। থাকলে তার কপি দেখতে চাইবেন। পরোয়ানায় নাম, অভিযোগ, আদালতের সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং অপরাধটি জামিনযোগ্য কি অজামিনযোগ্য তা জানাতে হবে।

আইনজীবী এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার রয়েছে। সংবিধান ৩৩(১) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪০ ধারায় বলা আছে, আপনি আপনার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পুলিশকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে আপনি যোগাযোগ করতে চান। পুলিশ বাধা দিতে পারবে না।

গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানো বাধ্যতামূলক। সংবিধান ৩৩(২) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ৬১ ধারা অনুযায়ী, এর বেশি সময় থানায় আটক রাখা বেআইনি। থানায় বা পুলিশের সামনে কোনো স্বীকারোক্তি না দেওয়ার পরামর্শ দেন আইনজীবীরা, কারণ তা পরে আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় দেওয়া যায় এবং তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়।

গ্রেফতারের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা অসুস্থ থাকলে মেডিকেল পরীক্ষা দাবি করা প্রয়োজন। পুলিশ বাধা দিলে আদালতে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। অভিযোগ যদি জামিনযোগ্য হয়, আইনজীবী থানা বা আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। অজামিনযোগ্য অপরাধেও বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতে জামিন চাওয়া সম্ভব।

বেআইনি গ্রেফতার, নির্যাতন বা ঘুষ দাবির প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হাই কোর্ট বা পুলিশের অভিযোগ সেলে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের উচিত নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়া। এতে যে কোনো পরিস্থিতিতেই নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে কী করবেন: যা জানা প্রয়োজন

আপডেটের সময়: ১২:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

◼️তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক

 

বাংলাদেশে পুলিশ গ্রেফতার করলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রেফতারের মুহূর্তে শান্ত থাকা ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রেফতারের সময় প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি বা পালানোর চেষ্টা করা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। পুলিশের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলুন এবং জানুন কেন আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশকে গ্রেফতারের সময় আপনার কাছে স্পষ্টভাবে কারণ জানাতে হয়। শুধু মৌখিকভাবে ‘উপরের নির্দেশে’ গ্রেফতার করা আইনসম্মত নয়।

গ্রেফতারের সময় জানতে হবে, আপনার নামে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কি না। থাকলে তার কপি দেখতে চাইবেন। পরোয়ানায় নাম, অভিযোগ, আদালতের সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং অপরাধটি জামিনযোগ্য কি অজামিনযোগ্য তা জানাতে হবে।

আইনজীবী এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার রয়েছে। সংবিধান ৩৩(১) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪০ ধারায় বলা আছে, আপনি আপনার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পুলিশকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে আপনি যোগাযোগ করতে চান। পুলিশ বাধা দিতে পারবে না।

গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানো বাধ্যতামূলক। সংবিধান ৩৩(২) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ৬১ ধারা অনুযায়ী, এর বেশি সময় থানায় আটক রাখা বেআইনি। থানায় বা পুলিশের সামনে কোনো স্বীকারোক্তি না দেওয়ার পরামর্শ দেন আইনজীবীরা, কারণ তা পরে আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় দেওয়া যায় এবং তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়।

গ্রেফতারের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা অসুস্থ থাকলে মেডিকেল পরীক্ষা দাবি করা প্রয়োজন। পুলিশ বাধা দিলে আদালতে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। অভিযোগ যদি জামিনযোগ্য হয়, আইনজীবী থানা বা আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। অজামিনযোগ্য অপরাধেও বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতে জামিন চাওয়া সম্ভব।

বেআইনি গ্রেফতার, নির্যাতন বা ঘুষ দাবির প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হাই কোর্ট বা পুলিশের অভিযোগ সেলে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের উচিত নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়া। এতে যে কোনো পরিস্থিতিতেই নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।