Dhaka ১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে কী করবেন: যা জানা প্রয়োজন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৫৪৪ সময় দেখুন
print news

◼️তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক

 

বাংলাদেশে পুলিশ গ্রেফতার করলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রেফতারের মুহূর্তে শান্ত থাকা ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রেফতারের সময় প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি বা পালানোর চেষ্টা করা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। পুলিশের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলুন এবং জানুন কেন আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশকে গ্রেফতারের সময় আপনার কাছে স্পষ্টভাবে কারণ জানাতে হয়। শুধু মৌখিকভাবে ‘উপরের নির্দেশে’ গ্রেফতার করা আইনসম্মত নয়।

গ্রেফতারের সময় জানতে হবে, আপনার নামে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কি না। থাকলে তার কপি দেখতে চাইবেন। পরোয়ানায় নাম, অভিযোগ, আদালতের সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং অপরাধটি জামিনযোগ্য কি অজামিনযোগ্য তা জানাতে হবে।

আইনজীবী এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার রয়েছে। সংবিধান ৩৩(১) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪০ ধারায় বলা আছে, আপনি আপনার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পুলিশকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে আপনি যোগাযোগ করতে চান। পুলিশ বাধা দিতে পারবে না।

গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানো বাধ্যতামূলক। সংবিধান ৩৩(২) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ৬১ ধারা অনুযায়ী, এর বেশি সময় থানায় আটক রাখা বেআইনি। থানায় বা পুলিশের সামনে কোনো স্বীকারোক্তি না দেওয়ার পরামর্শ দেন আইনজীবীরা, কারণ তা পরে আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় দেওয়া যায় এবং তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়।

গ্রেফতারের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা অসুস্থ থাকলে মেডিকেল পরীক্ষা দাবি করা প্রয়োজন। পুলিশ বাধা দিলে আদালতে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। অভিযোগ যদি জামিনযোগ্য হয়, আইনজীবী থানা বা আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। অজামিনযোগ্য অপরাধেও বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতে জামিন চাওয়া সম্ভব।

বেআইনি গ্রেফতার, নির্যাতন বা ঘুষ দাবির প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হাই কোর্ট বা পুলিশের অভিযোগ সেলে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের উচিত নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়া। এতে যে কোনো পরিস্থিতিতেই নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে কী করবেন: যা জানা প্রয়োজন

আপডেটের সময়: ১২:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক

 

বাংলাদেশে পুলিশ গ্রেফতার করলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রেফতারের মুহূর্তে শান্ত থাকা ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রেফতারের সময় প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি বা পালানোর চেষ্টা করা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। পুলিশের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলুন এবং জানুন কেন আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশকে গ্রেফতারের সময় আপনার কাছে স্পষ্টভাবে কারণ জানাতে হয়। শুধু মৌখিকভাবে ‘উপরের নির্দেশে’ গ্রেফতার করা আইনসম্মত নয়।

গ্রেফতারের সময় জানতে হবে, আপনার নামে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কি না। থাকলে তার কপি দেখতে চাইবেন। পরোয়ানায় নাম, অভিযোগ, আদালতের সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং অপরাধটি জামিনযোগ্য কি অজামিনযোগ্য তা জানাতে হবে।

আইনজীবী এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার রয়েছে। সংবিধান ৩৩(১) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪০ ধারায় বলা আছে, আপনি আপনার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পুলিশকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে আপনি যোগাযোগ করতে চান। পুলিশ বাধা দিতে পারবে না।

গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানো বাধ্যতামূলক। সংবিধান ৩৩(২) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ৬১ ধারা অনুযায়ী, এর বেশি সময় থানায় আটক রাখা বেআইনি। থানায় বা পুলিশের সামনে কোনো স্বীকারোক্তি না দেওয়ার পরামর্শ দেন আইনজীবীরা, কারণ তা পরে আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় দেওয়া যায় এবং তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়।

গ্রেফতারের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা অসুস্থ থাকলে মেডিকেল পরীক্ষা দাবি করা প্রয়োজন। পুলিশ বাধা দিলে আদালতে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। অভিযোগ যদি জামিনযোগ্য হয়, আইনজীবী থানা বা আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। অজামিনযোগ্য অপরাধেও বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতে জামিন চাওয়া সম্ভব।

বেআইনি গ্রেফতার, নির্যাতন বা ঘুষ দাবির প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, হাই কোর্ট বা পুলিশের অভিযোগ সেলে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের উচিত নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়া। এতে যে কোনো পরিস্থিতিতেই নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।