
ইসলামিক ডেস্ক◾
ইরানের পবিত্র খোমাইন শহরে জন্মগ্রহণকারী মহান ইসলামী চিন্তাবিদ সৈয়দ আলী আজ বিশ্বব্যাপী পরিচিত আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি নামে। তিনি শুধু একজন রাজনীতিক বা শাসকই নন, বরং একজন প্রকৃত আলিম, যিনি ইসলামের সর্বোচ্চ শিক্ষায় নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন ইরাক ও ইরানের বিখ্যাত মাদ্রাসা থেকে। ফিকাহ, তাফসির ও আকীদা বিষয়ে তার জ্ঞান এতটাই গভীর যে, ইসলামি বিশ্বে তাকে “আয়াতুল্লাহ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, যা একজন মুজতাহিদ, ফকীহ বা আল্লামার সম্মানসূচক প্রতীক।
তিনি কেবল বিদগ্ধ পণ্ডিতই নন, বরং রাসূল সা: এর ৩৮তম বংশধর। তাঁর পবিত্র বংশসূত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এর সন্তান ইমাম জয়নুল আবেদীন (রহ.) এর মাধ্যমে নবী পরিবারে পৌঁছায়। তার মাথার কালো পাগড়ী সেই নোবল বংশধারারই চিহ্ন বহন করে।
শিয়া মাজহাবের একজন শীর্ষ আলেম হয়েও তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বপ্ন দেখেছেন ও তা বাস্তবায়নের জন্য বহু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ফতোয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের বিভাজনের মূল কিছু বিতর্কিত বিষয়ের সমাধানে তিনি রাখেন অসামান্য অবদান। তার মধ্যে রয়েছে:
সাহাবায়ে কেরামদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা,
মহররম উপলক্ষে রক্তাক্ত মাতম পরিহার করার আহ্বান,
সব মাজহাবের মুসলমানদের একই কিবলার দিকে, একই মসজিদে নামাজ আদায়ের উৎসাহ।
এসব ফতোয়া শুধুমাত্র ফিকহি বিষয়ে দিকনির্দেশনাই নয়, বরং মুসলিম সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও ঐক্যের বাতিঘর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। শিয়া-সুন্নি বিভাজনের দুঃসহ সময়ে এই পদক্ষেপগুলো ছিল যুগান্তকারী।
আজও তার প্রতি লাখো মুসলমানের হৃদয়ে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সমর্থন বর্তমান, এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 
















