Dhaka ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

এক হাতে দায়িত্ব, আরেক হাতে দাওয়াত:রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী কুরআন-জীবন

মোঃ মোশারফ হোসেন– নেত্রকোনা সদর◾

 

সরকারি চাকরি, বিসিএস ক্যাডার, প্রশাসনিক দায়িত্ব—এই সবকিছুই আজ সমাজে মর্যাদার প্রতীক। যেখানে অনেকেই এসব ব্যবহার করে গড়ে তোলেন বিলাসবহুল জীবন, সেখানে ব্যতিক্রম এক নাম রায়হানুল হক।

 

বর্তমানে তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার। একইসঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন চন্ডিগড় ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবেও। প্রশাসনিক এসব পরিচয়ের আড়ালে তাঁর আরেকটি পরিচয়, যা দিন দিন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে—তিনি একজন আত্মনিবেদিত দাঈ, কুরআনের এক নিষ্ঠাবান আহ্বায়ক।

 

রায়হানুল হক নিজেকে কখনো বড় কিছু ভাবেন না। তাঁর কথায়, “আমার আসল পরিচয় আমি আল্লাহর এক বান্দা, আর দায়িত্ব হলো দাওয়াত দেওয়া—নিজে নামাজে অটল থাকা এবং অন্যদেরও ডাক দেওয়া।”

 

দিনভর সরকারি দায়িত্ব পালন করেও তিনি প্রতিনিয়ত সময় বের করেন মানুষের কাছে কুরআনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে। এলাকার তরুণদের নিয়ে বসে যান আলোচনা চক্রে, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পাশে দাঁড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া মক্তব পুনরুদ্ধারে কাজ করেন।

 

এই সময়েও, যখন সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, তখন একজন কৃষি অফিসারের এভাবে ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ বিরল এক দৃষ্টান্ত।

 

রায়হানুল হকের জীবনে নেই কোনো বিলাসিতা, নেই পদমর্যাদার অহংকার। তাঁর জীবন সাদামাটা, তবে চিন্তা-মেধা-আচরণে এক আলোকিত মানুষ। সততা, নম্রতা ও আত্মশুদ্ধির এক বাস্তব উদাহরণ তিনি।

 

তিনি মনে করেন, “দাওয়াত শুধু আলেমদের কাজ নয়, প্রত্যেক সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব। আমি সরকারি কর্মকর্তা হয়েছি—এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্ব, আর কুরআনের দাওয়াত আমার আত্মিক দায়িত্ব।”

 

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রশাসনের চেয়ারে বসেও চেষ্টা করেন সমাজের অন্তরের পরিবর্তন ঘটাতে। তাঁর মিশন—মানুষকে নামাজে ফেরানো, কুরআনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, আর আমাদের প্রজন্মকে ইসলামি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা।

 

তিনি প্রমাণ করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তাও হতে পারেন সমাজ বদলের শক্তি—যদি তাঁর অন্তরে থাকে আল্লাহর ভয়, কুরআনের আলো এবং একটুখানি আন্তরিকতা।

 

রায়হানুল হক আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন—প্রশাসনের চেয়ারে থেকেও একজন আলেমের মতো জীবন যাপন করা সম্ভব, যদি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেন।

 

এক হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, অন্য হাতে কুরআনের দাওয়াত—এই দুইয়ের ভার একসাথে যিনি বহন করছেন নীরবে, নিঃশব্দে, তিনি আজকের সময়ের এক আলোকবর্তিকা।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

এক হাতে দায়িত্ব, আরেক হাতে দাওয়াত:রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী কুরআন-জীবন

আপডেটের সময়: ০৫:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

মোঃ মোশারফ হোসেন– নেত্রকোনা সদর◾

 

সরকারি চাকরি, বিসিএস ক্যাডার, প্রশাসনিক দায়িত্ব—এই সবকিছুই আজ সমাজে মর্যাদার প্রতীক। যেখানে অনেকেই এসব ব্যবহার করে গড়ে তোলেন বিলাসবহুল জীবন, সেখানে ব্যতিক্রম এক নাম রায়হানুল হক।

 

বর্তমানে তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার। একইসঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন চন্ডিগড় ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবেও। প্রশাসনিক এসব পরিচয়ের আড়ালে তাঁর আরেকটি পরিচয়, যা দিন দিন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে—তিনি একজন আত্মনিবেদিত দাঈ, কুরআনের এক নিষ্ঠাবান আহ্বায়ক।

 

রায়হানুল হক নিজেকে কখনো বড় কিছু ভাবেন না। তাঁর কথায়, “আমার আসল পরিচয় আমি আল্লাহর এক বান্দা, আর দায়িত্ব হলো দাওয়াত দেওয়া—নিজে নামাজে অটল থাকা এবং অন্যদেরও ডাক দেওয়া।”

 

দিনভর সরকারি দায়িত্ব পালন করেও তিনি প্রতিনিয়ত সময় বের করেন মানুষের কাছে কুরআনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে। এলাকার তরুণদের নিয়ে বসে যান আলোচনা চক্রে, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পাশে দাঁড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া মক্তব পুনরুদ্ধারে কাজ করেন।

 

এই সময়েও, যখন সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, তখন একজন কৃষি অফিসারের এভাবে ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ বিরল এক দৃষ্টান্ত।

 

রায়হানুল হকের জীবনে নেই কোনো বিলাসিতা, নেই পদমর্যাদার অহংকার। তাঁর জীবন সাদামাটা, তবে চিন্তা-মেধা-আচরণে এক আলোকিত মানুষ। সততা, নম্রতা ও আত্মশুদ্ধির এক বাস্তব উদাহরণ তিনি।

 

তিনি মনে করেন, “দাওয়াত শুধু আলেমদের কাজ নয়, প্রত্যেক সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব। আমি সরকারি কর্মকর্তা হয়েছি—এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্ব, আর কুরআনের দাওয়াত আমার আত্মিক দায়িত্ব।”

 

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রশাসনের চেয়ারে বসেও চেষ্টা করেন সমাজের অন্তরের পরিবর্তন ঘটাতে। তাঁর মিশন—মানুষকে নামাজে ফেরানো, কুরআনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, আর আমাদের প্রজন্মকে ইসলামি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা।

 

তিনি প্রমাণ করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তাও হতে পারেন সমাজ বদলের শক্তি—যদি তাঁর অন্তরে থাকে আল্লাহর ভয়, কুরআনের আলো এবং একটুখানি আন্তরিকতা।

 

রায়হানুল হক আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন—প্রশাসনের চেয়ারে থেকেও একজন আলেমের মতো জীবন যাপন করা সম্ভব, যদি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেন।

 

এক হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, অন্য হাতে কুরআনের দাওয়াত—এই দুইয়ের ভার একসাথে যিনি বহন করছেন নীরবে, নিঃশব্দে, তিনি আজকের সময়ের এক আলোকবর্তিকা।