
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় আবাদযোগ্য কৃষিজমির উপরি স্তর টপসয়েল কেটে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। দেশের প্রচলিত ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্বে দিনরাত ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খননের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায় কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই ফসলি জমির বুক চিরে গভীর গর্ত তৈরি করে শত শত ট্রলি মাটি তোলা হচ্ছে। এসব মাটি বসতঘর ও ব্যক্তিগত রাস্তা ভরাটের কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ টপসয়েলেই ফসলের মূল পুষ্টিগুণ ও জৈব উপাদান থাকে। এই স্তর কেটে নেওয়ায় ভবিষ্যতে ওই জমিতে ফলন পাওয়া কঠিন হবে। পাশাপাশি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার কাঁচা ও পাকা রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য জমির উপরি স্তর কর্তন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মাটি কাটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। তথ্য সংগ্রহের সময় সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। সচেতন মহলের মতে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করতেই এমন আচরণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকরা অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর অভিযান এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
এরশাদুল হক–সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 













