
নোয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হাতিয়া নৌবন্দর বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। নির্বাচিত সরকারের হাত ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তব রূপ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয়রা। প্রায় সাত লক্ষাধিক মানুষের নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন নৌযাতায়াত নিশ্চিত করতে নৌবন্দরটি হাতিয়ার জন্য যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে হাতিয়ায় ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চট্টগ্রামের সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেরি সার্ভিস চালু করে নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুন মাসে হরনী ইউনিয়নে মেঘনা লোয়ার অংশে হাতিয়া নৌবন্দর নির্মাণের গেজেট প্রকাশিত হয়।
সুবর্ণচর সংলগ্ন চেয়ারম্যানঘাট থেকে নলচিরা ঘাট পর্যন্ত ফেরি চলাচল উদ্বোধনের খবরে অবহেলিত হাতিয়াবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি যাতায়াতে এই ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়রা মনে করছেন নৌবন্দর বাস্তবায়ন হলে হাতিয়া দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত হবে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচার ও রাজনীতিকরণ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা সংশয় তৈরি হলেও সচেতন মহল মনে করছেন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব উন্নয়ন কাজ পূর্ণ বাস্তবায়ন পাবে।
নোয়াখালী ছয় আসনের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকার জন্য আবদুল হান্নান মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নৌপরিবহন উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হাতিয়ার জনগণ। ফেরিঘাট নির্মাণ ও ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করায় সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
হাতিয়া নৌবন্দর বাস্তবায়ন হলে শুধু যাতায়াত নয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসংস্থান ও জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই রাজনৈতিক বিভাজন নয় বরং জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা হাতিয়াবাসীর।
মো দিদার উদ্দিন–হাতিয়া উপজেলা প্রতিনিধি 













