Dhaka ০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

তাড়াশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:৪১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৯৫ সময় দেখুন
print news

◼️এস. এম. রুহুল তাড়াশী–চলনবিল

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাদের কুপ্রস্তাব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত সহকারী শিক্ষিকাদের চেয়ার পরিষ্কার করানো ও চা বানানোর কাজে বাধ্য করেন। বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ নিজের সন্তানদের ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করেন এবং স্কুলের অনলাইন কার্যক্রম বাইরে কম্পিউটার দোকানে করাতে বাধ্য করেন। আপত্তি জানানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এবং একাধিকবার সহকর্মী শিক্ষিকাদের বাসায় গিয়ে কাজ করার অশোভন প্রস্তাব দেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ‘ফকিন্নির ছেলে-মেয়ে’ বলে অপমান করার অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, মৌখিকভাবে আপত্তি তুললে প্রধান শিক্ষক ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং বলেন, “কোনো অফিসারের সাধ্য নেই আমাকে বদলি করার।” ফলে অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন।

সোমবার (২৫ আগষ্ট)দুপুরে তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গেলে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া জানায়, প্রধান শিক্ষক চারুকলার পরীক্ষার সরঞ্জাম বাড়িতে নিয়ে গেছেন এবং শিক্ষার্থীদের অকারণে শারীরিক শাস্তি দেন। অন্য শিক্ষার্থী রুমান অভিযোগ করেন, নতুন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চাইলে মারধর করা হয়েছে।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে থাকাকালে তাদের মর্যাদা দেয়নি, প্রয়োজনীয় বিষয় উত্থাপন করলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ব্যক্তিগত খামারের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া শিশুদের জন্য সরকারি কৃমিনাশক ওষুধ পুরনো তারিখের খাওয়ানোর চাপও দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”

তাড়াশ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও তদন্ত কমিটির সদস্য মো. রেজাউল করিম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং উপস্থিত সবার লিখিত বিবৃতি সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

তাড়াশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০২:৪১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️এস. এম. রুহুল তাড়াশী–চলনবিল

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাদের কুপ্রস্তাব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত সহকারী শিক্ষিকাদের চেয়ার পরিষ্কার করানো ও চা বানানোর কাজে বাধ্য করেন। বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ নিজের সন্তানদের ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করেন এবং স্কুলের অনলাইন কার্যক্রম বাইরে কম্পিউটার দোকানে করাতে বাধ্য করেন। আপত্তি জানানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এবং একাধিকবার সহকর্মী শিক্ষিকাদের বাসায় গিয়ে কাজ করার অশোভন প্রস্তাব দেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ‘ফকিন্নির ছেলে-মেয়ে’ বলে অপমান করার অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, মৌখিকভাবে আপত্তি তুললে প্রধান শিক্ষক ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং বলেন, “কোনো অফিসারের সাধ্য নেই আমাকে বদলি করার।” ফলে অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন।

সোমবার (২৫ আগষ্ট)দুপুরে তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গেলে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া জানায়, প্রধান শিক্ষক চারুকলার পরীক্ষার সরঞ্জাম বাড়িতে নিয়ে গেছেন এবং শিক্ষার্থীদের অকারণে শারীরিক শাস্তি দেন। অন্য শিক্ষার্থী রুমান অভিযোগ করেন, নতুন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চাইলে মারধর করা হয়েছে।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে থাকাকালে তাদের মর্যাদা দেয়নি, প্রয়োজনীয় বিষয় উত্থাপন করলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ব্যক্তিগত খামারের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া শিশুদের জন্য সরকারি কৃমিনাশক ওষুধ পুরনো তারিখের খাওয়ানোর চাপও দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”

তাড়াশ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও তদন্ত কমিটির সদস্য মো. রেজাউল করিম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং উপস্থিত সবার লিখিত বিবৃতি সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।