
নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ৫ আগস্টের পর থেকে পরিচালিত সবচেয়ে বড় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে লাল বাহিনীর তাজুল ও বিলাই সনেট গ্রুপের সদস্যসহ মোট ১৮ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযানের প্রথম ধাপে আল আমিন, ছগির, সিফাত, আদন, জুনাইদ, মাহিদ, ইয়াদুল, আকাশ, সজিব, আল আমিন, ডালিম ও সাদেকসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে আল আমিনের বিরুদ্ধে ১৫টি, ছগিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণসহ ২টি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া ইয়াদুলের বিরুদ্ধেও একটি মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
অপর একটি পৃথক অভিযানে নরসিংদী মডেল থানার বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আবু লাল গ্রুপের সদস্য জুয়েল, হোসনা এবং সন্দেহভাজন কাউসার ও শাহরিয়ার আলম সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার সন্দেহভাজন সনেট গ্রুপের সদস্য মারুফ রহমান ও সাগরকেও আটক করা হয়। পুলিশের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত জুয়েলের বিরুদ্ধে ১৬টি এবং কাউসারের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অপরাধীদের মূলোৎপাটনে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে জেলার শীর্ষ অপরাধ চক্রগুলোর সক্রিয় সদস্যরা আইনের আওতায় আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলার পাশাপাশি নতুন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মোঃ আল-আমিন | নরসিংদী 



















