
◾মোঃ শাহারিয়ার নাজিম শুভ- ঢাকা
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৫ মে নতুন করে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
১২ মে (সোমবার) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। এদিন গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক নতুন এই দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল আদালত এই দুটি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২৯ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং ২৯ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই তারিখেও প্রতিবেদন জমা না পড়ায় সময় বাড়িয়ে ১২ মে ধার্য করা হয়। এরপরও একই অবস্থা।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি পৃথক দুটি মামলায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
প্রথম মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। সেখানে শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে আরও চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
এই মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা, সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একই প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। পরবর্তীতে আরও দুইজনকে যুক্ত করে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।
এই চার্জশিটেও রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজউক সদস্য, সাবেক কর্মকর্তারা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন একান্ত সচিব সালাহ উদ্দিন।
এই দুটি মামলাই দুর্নীতির নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনায় এসেছে, যা বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের অগ্রগতি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসন মহলে বাড়ছে উত্তেজনা ও আগ্রহ।
প্রতিবেদকের নাম 













