
রাফি- মৌলভীবাজার◾
মৌলভীবাজারে টানা ভারী বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। জেলার সাতটি উপজেলার নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে পাহাড় ধ্বসেরও।
গত দু’দিন ধরে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হলেও শুক্রবার (৩০ মে) ভোররাত থেকে শুরু হয় অতি ভারী বর্ষণ। ফলে সদ্য রোপণকৃত আউশধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজিকাল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজার সদরে, যার পরিমাণ ১৩৭ মিলিমিটার। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে ১১১ মিলিমিটার, শেরপুরে ৮৭ মিলিমিটার, কমলগঞ্জে ৮৫ মিলিমিটার এবং হাজীপুর ইউনিয়নের মনু রেল ব্রিজ এলাকায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বুলবুল আহমেদ জানিয়েছেন, জেলার প্রতিটি উপজেলার ইউএনও ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহত বৃষ্টির ফলে নদনদী ও হাওরের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মনু, ধলাই, সোনাই, ফানাই, কাপুয়া, জুড়ী এবং কন্টিনালা নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে। ভারতের উজানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও।
মনু নদীর পানি মৌলভীবাজারে বেড়েছে ১০৪ সেন্টিমিটার, মনু রেল ব্রিজ এলাকায় ৬৮ সেন্টিমিটার এবং কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর পানি বেড়েছে ৬০ সেন্টিমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ জানিয়েছেন, নদনদীর পানি বাড়লেও এখনো তা বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে আগাম বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 
















