Dhaka ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

রায়পুরায় অবৈধ বালু দস্যুদের সশস্ত্র হামলা: ভ্রাম্যমান আদালতের নিরাপত্তা ভঙ্গ

এইচ এম জাকির হুসাইন- নরসিংদী◾

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলীয় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা ক্রমেই দাপট নিতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সময়ে সময়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও বালু দস্যুদের কৌশল ও প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কার্যকর সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বরং দস্যুদের সশস্ত্র হামলার মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে রায়পুরার মির্জারচর এলাকায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চলাকালে সশস্ত্র বালু দস্যুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি বর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান রুবেল। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেপাল কান্তি দেব।

অভিযানে রায়পুরা থানা পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল সংখ্যক সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা মেঘনা নদীর চরমধুয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাই। অভিযানকালে বালু দস্যুরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের ভ্রাম্যমান আদালত স্থগিত করতে হয়।” তিনি আরও জানান, “এসব সশস্ত্র দস্যু একত্রিত হয়ে বিরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করতে রাজি আছি এবং প্রয়োজন পড়লে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেও কীভাবে দস্যুরা এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনার পেছনে গুমরাহ করা শক্তি কাজ করছে এবং প্রশাসনকে আরও সুসংহত উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিতেও একই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত ও সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বালু দস্যুদের এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড থেকে রায়পুরাসহ সমগ্র অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের আরও দৃঢ় ও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

রায়পুরায় অবৈধ বালু দস্যুদের সশস্ত্র হামলা: ভ্রাম্যমান আদালতের নিরাপত্তা ভঙ্গ

আপডেটের সময়: ০৫:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

এইচ এম জাকির হুসাইন- নরসিংদী◾

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলীয় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা ক্রমেই দাপট নিতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সময়ে সময়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও বালু দস্যুদের কৌশল ও প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কার্যকর সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বরং দস্যুদের সশস্ত্র হামলার মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে রায়পুরার মির্জারচর এলাকায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চলাকালে সশস্ত্র বালু দস্যুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি বর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান রুবেল। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেপাল কান্তি দেব।

অভিযানে রায়পুরা থানা পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল সংখ্যক সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা মেঘনা নদীর চরমধুয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাই। অভিযানকালে বালু দস্যুরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের ভ্রাম্যমান আদালত স্থগিত করতে হয়।” তিনি আরও জানান, “এসব সশস্ত্র দস্যু একত্রিত হয়ে বিরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করতে রাজি আছি এবং প্রয়োজন পড়লে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেও কীভাবে দস্যুরা এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনার পেছনে গুমরাহ করা শক্তি কাজ করছে এবং প্রশাসনকে আরও সুসংহত উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিতেও একই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত ও সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বালু দস্যুদের এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড থেকে রায়পুরাসহ সমগ্র অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের আরও দৃঢ় ও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।