Dhaka ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

রায়পুরে সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নে সরকারি স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় নির্মিত অধিকাংশ টুইনপিট ল্যাট্রিনের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও রিং স্ল্যাবে ফাটল দেখা দিয়েছে আবার কোথাও সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়ায় নির্মাণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ল্যাট্রিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রকল্পের কাগজপত্রে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান তার সম্পূর্ণ বিপরীত। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রকৃত সুফল দিতে পারছে না।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় ওই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে এবং তিনিই নেপথ্যে থেকে ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করছেন। এতে প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন সরকার আমাদের জন্য ভালো উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু কাজের মান এত খারাপ যে অল্পদিনেই সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে প্রকল্পে অনিয়মের সঠিক তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। তারা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরকারি অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

রায়পুরে সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

আপডেটের সময়: ১০:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নে সরকারি স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় নির্মিত অধিকাংশ টুইনপিট ল্যাট্রিনের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও রিং স্ল্যাবে ফাটল দেখা দিয়েছে আবার কোথাও সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়ায় নির্মাণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ল্যাট্রিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রকল্পের কাগজপত্রে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান তার সম্পূর্ণ বিপরীত। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রকৃত সুফল দিতে পারছে না।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় ওই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে এবং তিনিই নেপথ্যে থেকে ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করছেন। এতে প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন সরকার আমাদের জন্য ভালো উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু কাজের মান এত খারাপ যে অল্পদিনেই সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে প্রকল্পে অনিয়মের সঠিক তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। তারা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরকারি অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।