Dhaka ১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

সাইকেলের প্যাডেলে জীবনের যুদ্ধ: শৈশবকে বিসর্জন দিয়েছে তোফাজ্জল

print news

এহিয়া আহমদ রাফি কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)◼️

 

১৪ বছরের কিশোর তোফাজ্জল হোসেন, ভাঙা একটি সাইকেলে চড়ে প্রতিদিন ভোরে পাড়ি জমায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম খাসিয়া পল্লিতে। সেখানে দিনভর পরিশ্রম করে আয় করে মাত্র দুই-আড়াইশ টাকা। এই সামান্য উপার্জনেই চলছে তার পুরো পরিবারের জীবন।

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল। তার বাবা আলী আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছেন, বড় বোন আয়েশা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ৮২ বছর বয়সী দাদি সমিতা বিবি এক বছর ধরে শয্যাশায়ী।

 

তোফাজ্জল জানায়, “প্রতিদিন সকালে ভাঙা সাইকেল নিয়ে কাজে যাই। সন্ধ্যায় ফিরি। যা আয় করি, তা দিয়ে ঠিকমতো খাবার জোটে না। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দুনিয়ায় কেউ নেই।”

 

সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেওয়া ছোট ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে পাতানো পুরোনো কাঁথায় শুয়ে আছেন তোফাজ্জলের দাদি সমিতা বিবি। অপুষ্টির কারণে শরীর জীর্ণ, কথাও ঠিকঠাক বলতে পারেন না। কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, “ঈদের দিন শুধু ডাল-ভাত খেয়েছি। ক্ষুধায় ঘুম আসে না। তোফাজ্জল ছোট মানুষ, সে আর কত করুক?”

 

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি সত্যিই চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেশী ফজল মিয়া বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য করতে, কিন্তু সবসময় পারি না। ছেলেটা একাই লড়ছে।”

 

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে অনেকে সাময়িকভাবে খাবার সহযোগিতা করেছেন, তবে পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ বলেন, “সরকারি ঘর দেওয়া হলেও এখন তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা ও স্বাবলম্বিতার জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তোফাজ্জলের ভবিষ্যতের জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

 

এই পরিবারটির সাহায্যে সমাজের বিত্তবান, সংগঠন কিংবা প্রশাসনের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।

তোফাজ্জলের ছোট্ট ভাঙা সাইকেল যেন তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয় হয়ে না পড়ে, বরং সে-ই হোক নতুন আশার বাহক।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

সাইকেলের প্যাডেলে জীবনের যুদ্ধ: শৈশবকে বিসর্জন দিয়েছে তোফাজ্জল

আপডেটের সময়: ০৫:৩৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
print news

এহিয়া আহমদ রাফি কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)◼️

 

১৪ বছরের কিশোর তোফাজ্জল হোসেন, ভাঙা একটি সাইকেলে চড়ে প্রতিদিন ভোরে পাড়ি জমায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম খাসিয়া পল্লিতে। সেখানে দিনভর পরিশ্রম করে আয় করে মাত্র দুই-আড়াইশ টাকা। এই সামান্য উপার্জনেই চলছে তার পুরো পরিবারের জীবন।

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল। তার বাবা আলী আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছেন, বড় বোন আয়েশা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ৮২ বছর বয়সী দাদি সমিতা বিবি এক বছর ধরে শয্যাশায়ী।

 

তোফাজ্জল জানায়, “প্রতিদিন সকালে ভাঙা সাইকেল নিয়ে কাজে যাই। সন্ধ্যায় ফিরি। যা আয় করি, তা দিয়ে ঠিকমতো খাবার জোটে না। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দুনিয়ায় কেউ নেই।”

 

সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেওয়া ছোট ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে পাতানো পুরোনো কাঁথায় শুয়ে আছেন তোফাজ্জলের দাদি সমিতা বিবি। অপুষ্টির কারণে শরীর জীর্ণ, কথাও ঠিকঠাক বলতে পারেন না। কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, “ঈদের দিন শুধু ডাল-ভাত খেয়েছি। ক্ষুধায় ঘুম আসে না। তোফাজ্জল ছোট মানুষ, সে আর কত করুক?”

 

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি সত্যিই চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেশী ফজল মিয়া বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য করতে, কিন্তু সবসময় পারি না। ছেলেটা একাই লড়ছে।”

 

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে অনেকে সাময়িকভাবে খাবার সহযোগিতা করেছেন, তবে পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ বলেন, “সরকারি ঘর দেওয়া হলেও এখন তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা ও স্বাবলম্বিতার জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তোফাজ্জলের ভবিষ্যতের জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

 

এই পরিবারটির সাহায্যে সমাজের বিত্তবান, সংগঠন কিংবা প্রশাসনের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।

তোফাজ্জলের ছোট্ট ভাঙা সাইকেল যেন তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয় হয়ে না পড়ে, বরং সে-ই হোক নতুন আশার বাহক।