Dhaka ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ধীরগতিতে, বন্যার আশংকায় মৌলভীবাজার

print news

রাফি- মৌলভীবাজার◾

ভারতের মেঘালয় ও আসামের টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে মৌলভীবাজারে গত কয়েকদিন ধরে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে হাকালুকি হাওরসহ নদীপারের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে, বাড়ছে মনু ও ধলাই নদীর পানি। বিশেষ করে জুড়ী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে বন্যার আশঙ্কা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে ২০২২ সালে শুরু হওয়া হাজার কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ তীব্র গতি না পেয়ে মাত্র ৫৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন মাস হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ প্রগতি অনেক পিছিয়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, মনু নদীর ভাঙন রোধ ও মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার বন্যা মুক্ত রাখার জন্য ২০২২ সালে ৯৯৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। চর অপসারণ, বাঁধ মেরামত, ফ্লাড ওয়াল নির্মাণসহ ৭২টি কাজ টেন্ডার শেষে চলমান রয়েছে। চার বছর ধরে কাজ চলছে, কিন্তু জমি অধিগ্রহণ, বিএসএফের বাধা ও অর্থ সংকটের কারণে অগ্রগতি মাত্র অর্ধেকেরও কম।

গত বছর ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর একাধিক স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়, যা এলাকার ফসলি জমি, রাস্তা, ঘরবাড়ি এবং মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থানীয় উদ্যোগে বালির বস্তা দিয়ে সাময়িক প্রতিরোধ করা হলেও টিলাগাঁও, হাজীপুর, মিয়ারপাড়া ও শিকড়িয়া ডেমা বিলসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গুলোতে পুনরায় বন্যার ভয় বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনও দেখা যায়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে যাওয়া অবস্থায় বাঁধের মাটি ভরাটের সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

মৌলভীবাজার পাউবো সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি প্যাকেজে ৩০৭ কোটি টাকার কাজের মধ্যে ৫০ শতাংশই শেষ হয়েছে। বিএসএফের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রয়েছে।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত না হলে আসন্ন বর্ষায় বিপদ আরো বাড়বে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানালেন, স্থানীয় বাধার কারণে কাজের গতি ধীর হলেও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

বন্যার প্রাক্কালে প্রকল্পের ধীরগতির কারণে মৌলভীবাজারের লক্ষাধিক মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এখন উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সময়ের দাবি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কাজ।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ধীরগতিতে, বন্যার আশংকায় মৌলভীবাজার

আপডেটের সময়: ০৫:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
print news

রাফি- মৌলভীবাজার◾

ভারতের মেঘালয় ও আসামের টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে মৌলভীবাজারে গত কয়েকদিন ধরে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে হাকালুকি হাওরসহ নদীপারের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে, বাড়ছে মনু ও ধলাই নদীর পানি। বিশেষ করে জুড়ী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে বন্যার আশঙ্কা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে ২০২২ সালে শুরু হওয়া হাজার কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ তীব্র গতি না পেয়ে মাত্র ৫৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন মাস হলেও এখনো প্রকল্পের কাজ প্রগতি অনেক পিছিয়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, মনু নদীর ভাঙন রোধ ও মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার বন্যা মুক্ত রাখার জন্য ২০২২ সালে ৯৯৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। চর অপসারণ, বাঁধ মেরামত, ফ্লাড ওয়াল নির্মাণসহ ৭২টি কাজ টেন্ডার শেষে চলমান রয়েছে। চার বছর ধরে কাজ চলছে, কিন্তু জমি অধিগ্রহণ, বিএসএফের বাধা ও অর্থ সংকটের কারণে অগ্রগতি মাত্র অর্ধেকেরও কম।

গত বছর ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর একাধিক স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়, যা এলাকার ফসলি জমি, রাস্তা, ঘরবাড়ি এবং মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থানীয় উদ্যোগে বালির বস্তা দিয়ে সাময়িক প্রতিরোধ করা হলেও টিলাগাঁও, হাজীপুর, মিয়ারপাড়া ও শিকড়িয়া ডেমা বিলসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা গুলোতে পুনরায় বন্যার ভয় বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনও দেখা যায়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে যাওয়া অবস্থায় বাঁধের মাটি ভরাটের সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

মৌলভীবাজার পাউবো সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি প্যাকেজে ৩০৭ কোটি টাকার কাজের মধ্যে ৫০ শতাংশই শেষ হয়েছে। বিএসএফের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রয়েছে।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত না হলে আসন্ন বর্ষায় বিপদ আরো বাড়বে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানালেন, স্থানীয় বাধার কারণে কাজের গতি ধীর হলেও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

বন্যার প্রাক্কালে প্রকল্পের ধীরগতির কারণে মৌলভীবাজারের লক্ষাধিক মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এখন উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সময়ের দাবি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কাজ।