
জুনায়েদ–ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা◼️
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পুনিয়াউট মোড় থেকে উলচাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নয়নপুর, উলচাপাড়া, বিজেশ্বর, মোহাম্মদপুর ও রহিমপুর গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটি দিয়ে শহরের সঙ্গে পাঁচ গ্রামের সরাসরি যোগাযোগ হলেও চলাচলের একমাত্র পথটি আজ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও ভেঙে যাওয়া ইট, কোথাও আবার জমে থাকা কাঁদা—এই পথেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অটো, রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও ভ্যান।
রাস্তার ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে স্থানীয় স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, গাড়িচালক ও পথচারীরা জানান, গত এক দশক ধরে শুধু টেন্ডারের কথা শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তব কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতি বছর বর্ষায় এ রাস্তাটি একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা ও কর্দমাক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার এই করুণ অবস্থার জন্য মূলত দায়ী অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক চলাচল, যেগুলো বালু-পাথর পরিবহন করে। এই ভারী যানবাহনের কারণে রাস্তার বিভিন্ন অংশে ইট ও মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার এসব গর্তেই মানুষ পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তার পাশে নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফলে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এছাড়া নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে খামাখা সংস্কারের নাটক করা হয়, যা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ।
তাদের আরও অভিযোগ, সময় টিভি, পথিক টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বহুবার এই দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এমন অবস্থায় এলাকাবাসী দুইটি দাবি জানিয়েছে— হয় এই রাস্তাটি দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হোক, নাহলে বালু-পাথর ব্যবসায়ী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। না হলে এই দুর্ভোগ যে কোনো সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 















