
◼️মাহাবুর রহমান– কেশবপুর (যশোর)
যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় অতিবৃষ্টির ফলে নদীর পানি উপচে পড়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পৌরসভার অন্তত সাত হাজার পরিবারের মধ্যে চার হাজারের বেশি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
বদ্ধ পানি বসতবাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ায় অনেক গরিব পরিবার বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে অস্থায়ী টংঘর বানিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন টানা বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এতে করে নতুন করে আরও বহু পরিবার পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেশবপুর পৌর শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলো টানা পানির নিচে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পৌরসভাটি প্রতিবছর ৬ কোটিরও বেশি রাজস্ব আয় করলেও জনভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মানবিক বিপর্যয় এড়াতে বৃহস্পতিবার(৭ আগষ্ট) উপজেলা পরিষদের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলী, হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকার জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির সভাপতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক সদস্য মহির উদ্দিন বিশ্বাস, চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবু, জামায়াতে ইসলামী পৌর শাখার সভাপতি জাকির হোসেন, পাঁজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার মকবুল হোসেন মুকুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী সুমন শিকদার উপস্থিত থেকে কাশিমপুর থেকে মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বড়েঙ্গা পর্যন্ত সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়েই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কেশবপুরে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলবে।
প্রতিবেদকের নাম 















