Dhaka ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

ছাত্রশিবির কর্মীদের ওপর বামপন্থী সন্ত্রাসের ভয়াবহ হামলার তথ্য

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • ২১০ সময় দেখুন
print news

◼️মাহবুব আলম–কাফরুল 

 

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবারের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯,৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার রয়েছেন ২০,৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮,৯০২ জন।

বামপন্থী ছাত্রনেতারা প্রায়শই আশির নব্বইয়ের দশককে সামনে নিয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তবে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শিবির তখন ছিল উদীয়মান একটি ছোট সংগঠন। সেই সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে বামপন্থীদের প্রাধান্য ছিল ব্যাপক।

তাহলে কেন বারবার আশির ও নব্বইয়ের দশকের ঘটনা তুলে শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়? এর পেছনে ৮০ ও ৯০ দশকে বামপন্থীদের দ্বারা সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে, যা জানা জরুরি।

সেই সময়ে বামপন্থীদের হাতে ঘটে যাওয়া কিছু হত্যাকাণ্ডের নজীর তুলে ধরা হলো। এখানে শুধুমাত্র বামপন্থীদের হাতে নিহত শিবির কর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের দেশব্যাপী সন্ত্রাসের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে।

সাব্বির আহমদ – রাবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে, ১১ মার্চ ১৯৮২, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ (ক-চু), ছাত্রলীগ (মু-হা) ও ছাত্রমৈত্রী কর্তৃক ছুরি, লাঠি, বলম, হকিস্টিক, রড দ্বারা আঘাত।

আব্দুল হামিদ – ১১ মার্চ ১৯৮২, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা ইট, রড, হকিস্টিক, দা ও কুড়াল দিয়ে আঘাত।

আইয়ুব আলী – ১১ মার্চ ১৯৮২, বিএনসিসি ভবন, রাবি, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদ ছাত্রলীগ কর্তৃক ইট, ছুরি, রড, রামদা, বলম ও লাঠি দিয়ে হামলা।

আব্দুল জব্বার – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের অজুখানায়, ১১ মার্চ ১৯৮২, ছাত্রলীগ (ক-চু), ছাত্রলীগ (মু-হা), ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা ইট, ছুরি, রড ও হকিস্টিক দ্বারা আঘাত।

মাহফুজুল হক চৌধুরী – ২৭ জানুয়ারি ১৯৮৬, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম, ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত।

আব্দুল আজিজ – রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণে, বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে রামদা, হকিস্টিক, লাঠি দিয়ে আঘাত।

আমিনুল ইসলাম – বটতলী রেলস্টেশন, চট্টগ্রাম, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৮, ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত।

আসলাম হোসাইন – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নবাব আব্দুল লতিফ হল, ১৭ নভেম্বর ১৯৮৮, ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ দ্বারা রড, হকিস্টিক, ছোরা, কুড়াল ও রামদা দিয়ে হামলা।

আসগর আলী – শাহ মাখদুম হলের সামনে, ১৮ নভেম্বর ১৯৮৮, ছাত্রমৈত্রী কর্তৃক হকিস্টিক, কিরিচ, ছোরা ও কুড়াল দিয়ে শারীরিক ক্ষতি।

খলিলুর রহমান – সৈয়দ আমীর আলী হল, ২২ জুন ১৯৯০, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা গুলি, হকিস্টিক, রড ও কুড়াল দিয়ে আঘাত।

শেখ আমিনুল ইসলাম বিমান – শান্তিধাম মোড়, খুলনা, ২৫ মার্চ ১৯৯২, আওয়ামী লীগ ও কমিউনিস্ট সন্ত্রাসীদের দ্বারা রামদা, লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে আঘাত।

ইকবাল হোসেন – ঠাকুরগাঁও কচুবাড়ি বোর্ড অফিসের কাছে, ২ জুন ১৯৯২, ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা এবং হাত ও পায়ের রগ কাটা।

মুনসুর আলী – আশরতপুর, আর.কে. রোড, ২১ জুন ১৯৯২, বাম ও ঘাদানিক দ্বারা সন্ত্রাসী আক্রমণ।

আজিবুর রহমান – বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বুধপাড়া, ৭ জুলাই ১৯৯২, জাসদ ও ছাত্রমৈত্রীর সন্ত্রাসী বাহিনীর শক্তিশালী বোমা হামলা।

মোহাম্মদ সাইজুদ্দীন ও মু. আতিকুল ইসলাম দুলাল – ১৮ জুলাই ১৯৯২, বাম ঘাদানিক কমিটির সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে ব্রাশফায়ারে আঘাত।

শেখ রহমত আলী – বিএল কলেজ, খুলনা, ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা হামলা।

মু. জাফর আলম – লালদীঘি ময়দান, চট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই ১৯৯৪, ঘাদানিক (বাম, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা) দ্বারা গুলিবিদ্ধ।

মঈনুল ইসলাম – কলেজ রোড, রংপুর, ২৮ আগস্ট ১৯৯৫, জাসদ ছাত্রলীগ কর্তৃক রড ও রামদার আক্রমণ।

শওকত হোসেন তালুকদার – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৫, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রলীগ দ্বারা লাঠি, ছোরা ও ইট দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা।

মঞ্জুরুল কবীর – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৫, ছাত্রলীগ, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রঐক্য দ্বারা গুলি ও ইট দিয়ে আঘাত।

মুহাম্মদ আমিনুর রহমান – ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬, মুজিববাদী গুণ্ডাবাহিনী ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সর্বহারা দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত।

বাংলাদেশের ক্যাম্পাসে প্রথম ছাত্র কর্তৃক ছাত্র খুনের সংস্কৃতি শুরু হয় ১৯৬৯ সালে বামপন্থীদের হাত ধরে। সেই ধারা ৮০ ও ৯০ দশকে আরও বিস্তার লাভ করে এবং আজও অব্যাহত রয়েছে।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাম সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের উপর নৃত্য করেছিল। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাম সন্ত্রাসীরা তাদের প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। এই সব হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিয়ে বামপন্থীরা স্বেচ্ছাসেবী স্বরূপ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৫ মে গণহত্যাসহ জুড়িসিয়াল কিলিং-এর ঘটনায় বামনেতৃত্বাধীন শাহবাগ আন্দোলন এই ধরনের হত্যাকে বৈধতা দেয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হত্যাকাণ্ডের মেশিনে পরিণত করে।

শুধু খুনের দায়েই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কিলিং মেশিন বানানোর দায়ে বামপন্থীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

ছাত্রশিবির কর্মীদের ওপর বামপন্থী সন্ত্রাসের ভয়াবহ হামলার তথ্য

আপডেটের সময়: ১২:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️মাহবুব আলম–কাফরুল 

 

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবারের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯,৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার রয়েছেন ২০,৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮,৯০২ জন।

বামপন্থী ছাত্রনেতারা প্রায়শই আশির নব্বইয়ের দশককে সামনে নিয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তবে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শিবির তখন ছিল উদীয়মান একটি ছোট সংগঠন। সেই সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে বামপন্থীদের প্রাধান্য ছিল ব্যাপক।

তাহলে কেন বারবার আশির ও নব্বইয়ের দশকের ঘটনা তুলে শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়? এর পেছনে ৮০ ও ৯০ দশকে বামপন্থীদের দ্বারা সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে, যা জানা জরুরি।

সেই সময়ে বামপন্থীদের হাতে ঘটে যাওয়া কিছু হত্যাকাণ্ডের নজীর তুলে ধরা হলো। এখানে শুধুমাত্র বামপন্থীদের হাতে নিহত শিবির কর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের দেশব্যাপী সন্ত্রাসের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে।

সাব্বির আহমদ – রাবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে, ১১ মার্চ ১৯৮২, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ (ক-চু), ছাত্রলীগ (মু-হা) ও ছাত্রমৈত্রী কর্তৃক ছুরি, লাঠি, বলম, হকিস্টিক, রড দ্বারা আঘাত।

আব্দুল হামিদ – ১১ মার্চ ১৯৮২, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা ইট, রড, হকিস্টিক, দা ও কুড়াল দিয়ে আঘাত।

আইয়ুব আলী – ১১ মার্চ ১৯৮২, বিএনসিসি ভবন, রাবি, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদ ছাত্রলীগ কর্তৃক ইট, ছুরি, রড, রামদা, বলম ও লাঠি দিয়ে হামলা।

আব্দুল জব্বার – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের অজুখানায়, ১১ মার্চ ১৯৮২, ছাত্রলীগ (ক-চু), ছাত্রলীগ (মু-হা), ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা ইট, ছুরি, রড ও হকিস্টিক দ্বারা আঘাত।

মাহফুজুল হক চৌধুরী – ২৭ জানুয়ারি ১৯৮৬, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম, ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত।

আব্দুল আজিজ – রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণে, বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে রামদা, হকিস্টিক, লাঠি দিয়ে আঘাত।

আমিনুল ইসলাম – বটতলী রেলস্টেশন, চট্টগ্রাম, ২৮ এপ্রিল ১৯৮৮, ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত।

আসলাম হোসাইন – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নবাব আব্দুল লতিফ হল, ১৭ নভেম্বর ১৯৮৮, ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ দ্বারা রড, হকিস্টিক, ছোরা, কুড়াল ও রামদা দিয়ে হামলা।

আসগর আলী – শাহ মাখদুম হলের সামনে, ১৮ নভেম্বর ১৯৮৮, ছাত্রমৈত্রী কর্তৃক হকিস্টিক, কিরিচ, ছোরা ও কুড়াল দিয়ে শারীরিক ক্ষতি।

খলিলুর রহমান – সৈয়দ আমীর আলী হল, ২২ জুন ১৯৯০, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা গুলি, হকিস্টিক, রড ও কুড়াল দিয়ে আঘাত।

শেখ আমিনুল ইসলাম বিমান – শান্তিধাম মোড়, খুলনা, ২৫ মার্চ ১৯৯২, আওয়ামী লীগ ও কমিউনিস্ট সন্ত্রাসীদের দ্বারা রামদা, লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে আঘাত।

ইকবাল হোসেন – ঠাকুরগাঁও কচুবাড়ি বোর্ড অফিসের কাছে, ২ জুন ১৯৯২, ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা এবং হাত ও পায়ের রগ কাটা।

মুনসুর আলী – আশরতপুর, আর.কে. রোড, ২১ জুন ১৯৯২, বাম ও ঘাদানিক দ্বারা সন্ত্রাসী আক্রমণ।

আজিবুর রহমান – বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বুধপাড়া, ৭ জুলাই ১৯৯২, জাসদ ও ছাত্রমৈত্রীর সন্ত্রাসী বাহিনীর শক্তিশালী বোমা হামলা।

মোহাম্মদ সাইজুদ্দীন ও মু. আতিকুল ইসলাম দুলাল – ১৮ জুলাই ১৯৯২, বাম ঘাদানিক কমিটির সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে ব্রাশফায়ারে আঘাত।

শেখ রহমত আলী – বিএল কলেজ, খুলনা, ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন দ্বারা হামলা।

মু. জাফর আলম – লালদীঘি ময়দান, চট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই ১৯৯৪, ঘাদানিক (বাম, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা) দ্বারা গুলিবিদ্ধ।

মঈনুল ইসলাম – কলেজ রোড, রংপুর, ২৮ আগস্ট ১৯৯৫, জাসদ ছাত্রলীগ কর্তৃক রড ও রামদার আক্রমণ।

শওকত হোসেন তালুকদার – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৫, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রলীগ দ্বারা লাঠি, ছোরা ও ইট দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা।

মঞ্জুরুল কবীর – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৫, ছাত্রলীগ, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রঐক্য দ্বারা গুলি ও ইট দিয়ে আঘাত।

মুহাম্মদ আমিনুর রহমান – ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬, মুজিববাদী গুণ্ডাবাহিনী ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সর্বহারা দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত।

বাংলাদেশের ক্যাম্পাসে প্রথম ছাত্র কর্তৃক ছাত্র খুনের সংস্কৃতি শুরু হয় ১৯৬৯ সালে বামপন্থীদের হাত ধরে। সেই ধারা ৮০ ও ৯০ দশকে আরও বিস্তার লাভ করে এবং আজও অব্যাহত রয়েছে।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাম সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের উপর নৃত্য করেছিল। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাম সন্ত্রাসীরা তাদের প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। এই সব হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিয়ে বামপন্থীরা স্বেচ্ছাসেবী স্বরূপ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৫ মে গণহত্যাসহ জুড়িসিয়াল কিলিং-এর ঘটনায় বামনেতৃত্বাধীন শাহবাগ আন্দোলন এই ধরনের হত্যাকে বৈধতা দেয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হত্যাকাণ্ডের মেশিনে পরিণত করে।

শুধু খুনের দায়েই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কিলিং মেশিন বানানোর দায়ে বামপন্থীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।