Dhaka ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধ স্বাস্থ্যসেবা, থেমে গেছে ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ প্রকল্প

print news

◼️রকুনুজ্জামান– বাগাতিপাড়া (নাটোর

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চালু হওয়া একসময়ের বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য সেবার ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ব্যাটারি ও ইঞ্জিন অকেজো হয়ে মরিচা ধরেছে যানবাহনগুলোতে। ফলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের তৃণমূলের মানুষ আজ বঞ্চিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে সংযোগী বাহন এই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর অর্থায়নে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। উপজেলার পাঁকা, জামনগর, বাগাতিপাড়া, ফাওয়াড়দিয়াড় ও দয়ারামপুর ইউনিয়নে মোট পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে রোগী পরিবহণের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়। প্রতিটি গাড়ির খরচ হয়েছিল এক লাখ ৮৮ হাজার ৭৬৪ টাকা করে, মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮২০ টাকা। চালুর পর শুরুতে ২৪ ঘণ্টার সেবা পেয়ে সুবিধাভোগীরা স্বস্তি পেলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যানবাহনগুলো একে একে অচল হয়ে যায়। বর্তমানে সেগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

জামনগর ইউনিয়নের ভিগরভাগ গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, “গরিবের অ্যাম্বুলেন্স থাকায় আমরা আগে দিনে-রাতে খুব সহজে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতাম। এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ হসপিটালের অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু একটি অ্যাম্বুলেন্সে পুরো উপজেলা কাভার করা সম্ভব হয় না। ব্যাক্তি গত গাড়ি সব সময় পাওয়া যায়না ,আবার খরচও অনেক বেশী এতে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।”

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রথম দিকে প্রকল্পে কিছু সাড়া পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে আর কার্যকর ছিল না’। এ প্রকল্প পরিচালনার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা গাইডলাইন না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন জানান, “আমি এ প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচেতন মহলের মনে করেন, সুষ্ঠ পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটি ভেস্তে গেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হওয়ার পাশাপাশি বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ দরিদ্র মানুষ। তবে, অচিরে আবারও এই সেবা চালু হবে এমন আশাবাদ তাদের।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধ স্বাস্থ্যসেবা, থেমে গেছে ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ প্রকল্প

আপডেটের সময়: ০৯:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️রকুনুজ্জামান– বাগাতিপাড়া (নাটোর

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চালু হওয়া একসময়ের বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য সেবার ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ব্যাটারি ও ইঞ্জিন অকেজো হয়ে মরিচা ধরেছে যানবাহনগুলোতে। ফলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের তৃণমূলের মানুষ আজ বঞ্চিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে সংযোগী বাহন এই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর অর্থায়নে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। উপজেলার পাঁকা, জামনগর, বাগাতিপাড়া, ফাওয়াড়দিয়াড় ও দয়ারামপুর ইউনিয়নে মোট পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে রোগী পরিবহণের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়। প্রতিটি গাড়ির খরচ হয়েছিল এক লাখ ৮৮ হাজার ৭৬৪ টাকা করে, মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮২০ টাকা। চালুর পর শুরুতে ২৪ ঘণ্টার সেবা পেয়ে সুবিধাভোগীরা স্বস্তি পেলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যানবাহনগুলো একে একে অচল হয়ে যায়। বর্তমানে সেগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

জামনগর ইউনিয়নের ভিগরভাগ গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, “গরিবের অ্যাম্বুলেন্স থাকায় আমরা আগে দিনে-রাতে খুব সহজে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতাম। এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ হসপিটালের অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু একটি অ্যাম্বুলেন্সে পুরো উপজেলা কাভার করা সম্ভব হয় না। ব্যাক্তি গত গাড়ি সব সময় পাওয়া যায়না ,আবার খরচও অনেক বেশী এতে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।”

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রথম দিকে প্রকল্পে কিছু সাড়া পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে আর কার্যকর ছিল না’। এ প্রকল্প পরিচালনার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা গাইডলাইন না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন জানান, “আমি এ প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচেতন মহলের মনে করেন, সুষ্ঠ পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটি ভেস্তে গেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হওয়ার পাশাপাশি বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ দরিদ্র মানুষ। তবে, অচিরে আবারও এই সেবা চালু হবে এমন আশাবাদ তাদের।