Dhaka ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ, চালক ও হেলপারকে জরিমানা দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩ হাওরের শিক্ষায় যুগান্তকারী বদল, আসছে নতুন পরিকল্পনা নরসিংদীর মাধবদী হাটে কোটি টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ৩ জনের জরিমানা কদমতলীতে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ২ কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যা, ৭ জন গ্রেফতার নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

কাঠালিয়ায় সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়ক বেহাল: চরম দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

print news

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এই সড়কটি বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারে ১৮ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দা ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কটির ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও ঢালাই ভেঙে ভেতরের মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা ও কাদা। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশেই রয়েছে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ব্যস্ত বাজার। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই যাতায়াত করছেন। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত টেকসই সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
বিদ্যালয় ও কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন চরম আতঙ্ক ও ঝুঁকি নিয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদাপানির কারণে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানোও সম্ভব হয় না।
সড়কটির এমন বেহাল দশার বিষয়ে জানতে চাইলে কাঠালিয়া উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আইডি (ID)-সংক্রান্ত কিছু আইনি জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সেই জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হওয়া মাত্রই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

কাঠালিয়ায় সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়ক বেহাল: চরম দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

আপডেটের সময়: ০১:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
print news

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এই সড়কটি বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারে ১৮ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দা ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কটির ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও ঢালাই ভেঙে ভেতরের মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা ও কাদা। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশেই রয়েছে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ব্যস্ত বাজার। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই যাতায়াত করছেন। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত টেকসই সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
বিদ্যালয় ও কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন চরম আতঙ্ক ও ঝুঁকি নিয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদাপানির কারণে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানোও সম্ভব হয় না।
সড়কটির এমন বেহাল দশার বিষয়ে জানতে চাইলে কাঠালিয়া উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আইডি (ID)-সংক্রান্ত কিছু আইনি জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সেই জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হওয়া মাত্রই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।