Dhaka ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

প্রতারণার নতুন কৌশল;চাকরির বিজ্ঞাপন ফাঁদে ফেলছে তরুণদের

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • ২৫৭ সময় দেখুন

খাইরুল ইসলাম–ঢাকা◼️

 

দেশে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে প্রতারণার সুযোগও।এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র গড়ে তুলেছে চাকরির নামে প্রতারণার ভয়ংকর জাল।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, First Class Private Ltd নামের একটি কথিত প্রতিষ্ঠান চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিচ্ছে, আর কেউ প্রশ্ন করলেই ব্লক করে দিচ্ছে।এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিজ্ঞাপনে দাবি করে, তারা বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য কোম্পানি এবং বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করে।প্রতিষ্ঠানটি সহকারী সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেবে বলে জানায়, যেখানে আবেদন করতে চাওয়া প্রার্থীদের থেকে চাওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও কাগজপত্র।তাদের দাবি—প্রতিদিনের হাজিরা বোনাস, থাকা-খাওয়ার সুবিধা, ওভারটাইম, চিকিৎসা ভাতা, ঈদ বোনাস সবকিছুই তাদের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।এমন বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হন।কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় ভয়াবহ প্রতারণার চিত্র।পরিচয় গোপন রেখে অনুসন্ধান টিম তাদের দেওয়া নাম্বার ০১৯০৬৯৮২৮৮৩-তে যোগাযোগ করে।প্রথমদিকে ভদ্রভাবে কথা বলা হলেও কিছু প্রশ্ন তুলতেই পালটে যায় ভাষা।প্রতিনিধিকে বলা হয়, “১০০০ টাকা পাঠান, তারপর চাকরির ব্যাপারে বলা হবে।”যখন জিজ্ঞাসা করা হয়—জেএসসি পাশ করে কীভাবে একজন সহকারী সুপারভাইজার হতে পারে, তখনই ফোন কেটে ব্লক করে দেওয়া হয়।একজন ভুক্তভোগী আমাদের জানান, “আমি তাদের নির্দেশে কাগজপত্র পাঠাই। পরে তারা বলে ১০০০ টাকা পাঠাতে। টাকা না পাঠানোয় তারা আমাকে ব্লক করে দেয় এবং খারাপ ব্যবহার করে।আমরা খোঁজ নিই তাদের অফিস বা কোম্পানির তথ্য।কোনো সরকারি নথিপত্রে First Class Private Ltd নামে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি।কোনো ট্রেড লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, টিন সার্টিফিকেট এমনকি স্থায়ী অফিস ঠিকানাও নেই।তারা শুধুমাত্র একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে, যা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।আইন অনুযায়ী, কেউ যদি চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ করে এবং সেটি প্রতারণা প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে চাকরির অভাবে তরুণরা অনেক সময় যাচাই-বাছাই না করেই প্রতারণার শিকার হয়ে যান।এই ধরণের ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে চাইলে সচেতনতা ও তথ্য যাচাইয়ের বিকল্প নেই।সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে—এ ধরণের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।যাতে আর কোনো তরুণ তার স্বপ্ন, পরিশ্রম কিংবা অর্থ হারিয়ে না ফেলে।

প্রতারণা রুখতে আপনার সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

প্রতারণার নতুন কৌশল;চাকরির বিজ্ঞাপন ফাঁদে ফেলছে তরুণদের

আপডেটের সময়: ১১:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

খাইরুল ইসলাম–ঢাকা◼️

 

দেশে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে প্রতারণার সুযোগও।এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র গড়ে তুলেছে চাকরির নামে প্রতারণার ভয়ংকর জাল।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, First Class Private Ltd নামের একটি কথিত প্রতিষ্ঠান চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিচ্ছে, আর কেউ প্রশ্ন করলেই ব্লক করে দিচ্ছে।এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিজ্ঞাপনে দাবি করে, তারা বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য কোম্পানি এবং বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করে।প্রতিষ্ঠানটি সহকারী সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেবে বলে জানায়, যেখানে আবেদন করতে চাওয়া প্রার্থীদের থেকে চাওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও কাগজপত্র।তাদের দাবি—প্রতিদিনের হাজিরা বোনাস, থাকা-খাওয়ার সুবিধা, ওভারটাইম, চিকিৎসা ভাতা, ঈদ বোনাস সবকিছুই তাদের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।এমন বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হন।কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় ভয়াবহ প্রতারণার চিত্র।পরিচয় গোপন রেখে অনুসন্ধান টিম তাদের দেওয়া নাম্বার ০১৯০৬৯৮২৮৮৩-তে যোগাযোগ করে।প্রথমদিকে ভদ্রভাবে কথা বলা হলেও কিছু প্রশ্ন তুলতেই পালটে যায় ভাষা।প্রতিনিধিকে বলা হয়, “১০০০ টাকা পাঠান, তারপর চাকরির ব্যাপারে বলা হবে।”যখন জিজ্ঞাসা করা হয়—জেএসসি পাশ করে কীভাবে একজন সহকারী সুপারভাইজার হতে পারে, তখনই ফোন কেটে ব্লক করে দেওয়া হয়।একজন ভুক্তভোগী আমাদের জানান, “আমি তাদের নির্দেশে কাগজপত্র পাঠাই। পরে তারা বলে ১০০০ টাকা পাঠাতে। টাকা না পাঠানোয় তারা আমাকে ব্লক করে দেয় এবং খারাপ ব্যবহার করে।আমরা খোঁজ নিই তাদের অফিস বা কোম্পানির তথ্য।কোনো সরকারি নথিপত্রে First Class Private Ltd নামে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি।কোনো ট্রেড লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, টিন সার্টিফিকেট এমনকি স্থায়ী অফিস ঠিকানাও নেই।তারা শুধুমাত্র একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে, যা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।আইন অনুযায়ী, কেউ যদি চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ করে এবং সেটি প্রতারণা প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে চাকরির অভাবে তরুণরা অনেক সময় যাচাই-বাছাই না করেই প্রতারণার শিকার হয়ে যান।এই ধরণের ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে চাইলে সচেতনতা ও তথ্য যাচাইয়ের বিকল্প নেই।সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে—এ ধরণের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।যাতে আর কোনো তরুণ তার স্বপ্ন, পরিশ্রম কিংবা অর্থ হারিয়ে না ফেলে।

প্রতারণা রুখতে আপনার সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।