Dhaka ১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ, চালক ও হেলপারকে জরিমানা দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩ হাওরের শিক্ষায় যুগান্তকারী বদল, আসছে নতুন পরিকল্পনা নরসিংদীর মাধবদী হাটে কোটি টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ৩ জনের জরিমানা কদমতলীতে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ২ কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যা, ৭ জন গ্রেফতার নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

বিসিবির প্যাড জাল করে কোটি টাকা প্রতারণা, মূলহোতা রামু’র নয়ন

print news

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় পরিচয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নাম ভাঙিয়ে উন্নত দেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়াবহ প্রতারণা চক্রের সন্ধান মিলেছে। চক্রের মূলহোতা কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা নয়ন বড়ুয়া যুবরাজ। বিসিবির লোগো, ভুয়া ইমেইল ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে শতাধিক মানুষকে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করেছে এই চক্র। অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-প্রমাণে এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত নয়ন বড়ুয়া যুবরাজ কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ার ঘোনা বড়ুয়া পাড়ার মেকো বড়ুয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে প্রতারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়ে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেন তিনি।
কেউ যোগাযোগ করলে নয়ন নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের ‘এ’ দলের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেন। সরল বিশ্বাসে মানুষ তার ফাঁদে পা দিলে তিনি ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড় বা সহকারী স্টাফ হিসেবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন।
অনুসন্ধানে এই চক্রের জালিয়াতির বেশ কিছু অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অর্থ ও বৈদেশিক বিষয়ক বিভাগ’-এর একটি ভুয়া চুক্তিনামা পাওয়া গেছে। নিউজিল্যান্ড সফর সংক্রান্ত ওই ভুয়া প্যাডে বিসিবির অর্থ ও বৈদেশিক বিষয়ক বিভাগের চেয়ারম্যান সাইফুল আমিন চৌধুরীর জাল স্বাক্ষর রয়েছে; যেখানে সফরকারীদের ভিসা, আর্থিক লেনদেন ও গোপনীয়তা রক্ষার মতো নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করতে বিসিবির নামে একটি ভুয়া ইমেইল অ্যাকাউন্টও খোলে এই চক্র। সেখান থেকে পাঠানো ইমেইলে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় ‘এ’ ক্রিকেট দল আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে এবং চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের সহকারী ট্রেইনার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হবে। অগ্রিম ফি বাবদ পাসপোর্ট ও টাকা গ্রহণের বিষয়টিও ওই ইমেইলে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী আকাশ বড়ুয়ার সাথে যুবরাজের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, যুবরাজ এর আগেও ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে ভিসা করানোর ভুয়া দাবি করেছেন। বিমান ভাড়া ও ভিসা ফিসহ মোট ৮ হাজার ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা) খরচের কথা বলেন তিনি। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ যুবরাজ নিজের অ্যাকাউন্টে না নিয়ে, তার বোন আলো বড়ুয়ার নামে থাকা ব্র্যাক ব্যাংক উখিয়া শাখার একটি হিসাব নম্বরে (১০৫৫২১০০৯০০০১) নিতেন।
ইতিমধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রবীণ বড়ুয়া ও ইকলু বড়ুয়া বাদী হয়ে রামু থানায় নয়ন বড়ুয়া যুবরাজকে ১ নম্বর এবং তার বোন আলো বড়ুয়াকে ২ নম্বর আসামি করে পৃথক দুটি लिखित অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিউজিল্যান্ডের ভিসার কথা বলে প্রবীণ বড়ুয়ার কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আয়ারল্যান্ডের ভিসার কথা বলে ইকলু বড়ুয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। টাকা ও পাসপোর্ট নেওয়ার পর যুবরাজ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান।
এছাড়া চট্টগ্রামের দক্ষিণ জয়নগরের আকাশ বড়ুয়া, লোহাগাড়ার ইমন বড়ুয়া, বাঁশখালীর ইকু বড়ুয়া ও আপন বড়ুয়া, উখিয়া কোর্টবাজারের তাতু বড়ুয়া, দুর্জয় বড়ুয়া, মমতোষ বড়ুয়া এবং অনিক বড়ুয়াসহ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছে এই ভাই-বোন চক্র।
নয়ন বড়ুয়ার বিলাসী জীবনযাপন ও হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামুর বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নয়ন এলাকায় নিজেকে বড় ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে জাহির করতেন। দামি পোশাক আর পকেটে লাখ লাখ টাকা নিয়ে ঘুরতেন। অথচ এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীরা এসে তার বাড়ির সামনে কাঁদছেন। তখনই স্পষ্ট হয় যে, সে আসলে ক্রিকেটের আড়ালে একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র চালাচ্ছিল। তার বোন আলো বড়ুয়াও এই টাকার সমান অংশীদার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন বড়ুয়া যুবরাজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। সরাসরি সাক্ষাতের অনুরোধও এড়িয়ে যান। তবে পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো নিজেকে বিসিবির কর্মচারী বলেননি, বরং ঢাকা লিগে ক্রিকেট খেলেন। একই সাথে তার বিরুদ্ধে ওঠা ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিনিয়র ম্যানেজার (মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস) রাবীদ ইমাম। সরবরাহকৃত তথ্য পর্যালোচনা করে তিনি জানান, ব্যবহৃত প্যাডটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এতে বিসিবির লোগো, সিল এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে বিসিবির সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিসিবির মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে এমন জালিয়াতি দেশের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন করছে, তেমনই নিঃস্বর করছে সাধারণ মানুষকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূলহোতা নয়ন বড়ুয়া যুবরাজ ও তার বোন আলো বড়ুয়াকে আইনের আওতায় এনে যেন তাদের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

বিসিবির প্যাড জাল করে কোটি টাকা প্রতারণা, মূলহোতা রামু’র নয়ন

আপডেটের সময়: ০৬:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
print news

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় পরিচয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নাম ভাঙিয়ে উন্নত দেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়াবহ প্রতারণা চক্রের সন্ধান মিলেছে। চক্রের মূলহোতা কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা নয়ন বড়ুয়া যুবরাজ। বিসিবির লোগো, ভুয়া ইমেইল ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে শতাধিক মানুষকে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করেছে এই চক্র। অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-প্রমাণে এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত নয়ন বড়ুয়া যুবরাজ কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ার ঘোনা বড়ুয়া পাড়ার মেকো বড়ুয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে প্রতারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়ে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেন তিনি।
কেউ যোগাযোগ করলে নয়ন নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের ‘এ’ দলের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেন। সরল বিশ্বাসে মানুষ তার ফাঁদে পা দিলে তিনি ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড় বা সহকারী স্টাফ হিসেবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন।
অনুসন্ধানে এই চক্রের জালিয়াতির বেশ কিছু অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অর্থ ও বৈদেশিক বিষয়ক বিভাগ’-এর একটি ভুয়া চুক্তিনামা পাওয়া গেছে। নিউজিল্যান্ড সফর সংক্রান্ত ওই ভুয়া প্যাডে বিসিবির অর্থ ও বৈদেশিক বিষয়ক বিভাগের চেয়ারম্যান সাইফুল আমিন চৌধুরীর জাল স্বাক্ষর রয়েছে; যেখানে সফরকারীদের ভিসা, আর্থিক লেনদেন ও গোপনীয়তা রক্ষার মতো নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করতে বিসিবির নামে একটি ভুয়া ইমেইল অ্যাকাউন্টও খোলে এই চক্র। সেখান থেকে পাঠানো ইমেইলে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় ‘এ’ ক্রিকেট দল আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে এবং চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের সহকারী ট্রেইনার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হবে। অগ্রিম ফি বাবদ পাসপোর্ট ও টাকা গ্রহণের বিষয়টিও ওই ইমেইলে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী আকাশ বড়ুয়ার সাথে যুবরাজের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, যুবরাজ এর আগেও ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে ভিসা করানোর ভুয়া দাবি করেছেন। বিমান ভাড়া ও ভিসা ফিসহ মোট ৮ হাজার ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা) খরচের কথা বলেন তিনি। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ যুবরাজ নিজের অ্যাকাউন্টে না নিয়ে, তার বোন আলো বড়ুয়ার নামে থাকা ব্র্যাক ব্যাংক উখিয়া শাখার একটি হিসাব নম্বরে (১০৫৫২১০০৯০০০১) নিতেন।
ইতিমধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রবীণ বড়ুয়া ও ইকলু বড়ুয়া বাদী হয়ে রামু থানায় নয়ন বড়ুয়া যুবরাজকে ১ নম্বর এবং তার বোন আলো বড়ুয়াকে ২ নম্বর আসামি করে পৃথক দুটি लिखित অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিউজিল্যান্ডের ভিসার কথা বলে প্রবীণ বড়ুয়ার কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আয়ারল্যান্ডের ভিসার কথা বলে ইকলু বড়ুয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। টাকা ও পাসপোর্ট নেওয়ার পর যুবরাজ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান।
এছাড়া চট্টগ্রামের দক্ষিণ জয়নগরের আকাশ বড়ুয়া, লোহাগাড়ার ইমন বড়ুয়া, বাঁশখালীর ইকু বড়ুয়া ও আপন বড়ুয়া, উখিয়া কোর্টবাজারের তাতু বড়ুয়া, দুর্জয় বড়ুয়া, মমতোষ বড়ুয়া এবং অনিক বড়ুয়াসহ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছে এই ভাই-বোন চক্র।
নয়ন বড়ুয়ার বিলাসী জীবনযাপন ও হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামুর বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নয়ন এলাকায় নিজেকে বড় ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে জাহির করতেন। দামি পোশাক আর পকেটে লাখ লাখ টাকা নিয়ে ঘুরতেন। অথচ এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীরা এসে তার বাড়ির সামনে কাঁদছেন। তখনই স্পষ্ট হয় যে, সে আসলে ক্রিকেটের আড়ালে একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র চালাচ্ছিল। তার বোন আলো বড়ুয়াও এই টাকার সমান অংশীদার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন বড়ুয়া যুবরাজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। সরাসরি সাক্ষাতের অনুরোধও এড়িয়ে যান। তবে পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো নিজেকে বিসিবির কর্মচারী বলেননি, বরং ঢাকা লিগে ক্রিকেট খেলেন। একই সাথে তার বিরুদ্ধে ওঠা ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিনিয়র ম্যানেজার (মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস) রাবীদ ইমাম। সরবরাহকৃত তথ্য পর্যালোচনা করে তিনি জানান, ব্যবহৃত প্যাডটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এতে বিসিবির লোগো, সিল এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে বিসিবির সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিসিবির মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে এমন জালিয়াতি দেশের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন করছে, তেমনই নিঃস্বর করছে সাধারণ মানুষকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূলহোতা নয়ন বড়ুয়া যুবরাজ ও তার বোন আলো বড়ুয়াকে আইনের আওতায় এনে যেন তাদের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়।