Dhaka ০৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ, চালক ও হেলপারকে জরিমানা দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩ হাওরের শিক্ষায় যুগান্তকারী বদল, আসছে নতুন পরিকল্পনা নরসিংদীর মাধবদী হাটে কোটি টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ৩ জনের জরিমানা কদমতলীতে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ২ কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যা, ৭ জন গ্রেফতার নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

সারা বাংলাদেশে শিল্প এলাকায় টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা

print news

সারা বাংলাদেশে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা
নারায়ণগঞ্জ, মিরপুরে, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েকদিন ধরে , রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় তারা বন্ধ করে দেন বেশকিছু পোশাক কারখানা।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনব্যাপী কোনাবাড়ি, মৌচাক কাশিমপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা ঢাকা -টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে আসেন। পরে তারা ওই মহাসড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। শ্রমিকরা লাঠি-সোঠা হাতে নিয়ে দোকানপাট, বিভিন্ন মেডিসিনের দোকানে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় হামলার আশংকায় কোনাবাড়ি এলাকার দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্ষোভকারীরা মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
কোনাবাড়ি থেকে মিছিল সহকারে শ্রমিকরা ভোগড়া বাইপাস হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ দিয়ে কলম্বিয়া গার্মেন্টস পর্যন্ত যান। সেখানে তারা বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। খবর পেয়ে পুলিশ মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।
গত ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিচালা ও মৌচাক এলাকার শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে আসছেন। গত কয়েকদিনে তারা এসব এলাকায় ব্যাপক কারখানা ভাংচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর করেছেন।
কোনাবাড়ি তুষকা নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আমেনা আক্তার বলেন, আমাদের বেতন ৮ হাজার টাকা। এই টাকায় আমাদের সংসার চলে না। আমরা চাই আমাদের বেতন যেন ২৩ হাজার টাকা করা হয়।
কারখানার শ্রমিক সফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে এখন সব কিছুর দাম বেশি। তাই বর্তমান বেতন দিয়ে চলতে পারি না। দেশে টাকা পাঠাতে হয়। সেই টাকাও এখন পাঠাতে পারি না। পুরো মাস ধার দেনা করে চলতে হয়। ঘর ভাড়াও দিতে হয়।
পোশাক শ্রমিক আফরোজা বেগম বলেন, অপারেটর পদে চাকরি করি। বেতন ১০ হাজার ২০০ টাকা। দ্রব্যের অতিরিক্ত দামের কারণে এই বেতনে সংসার চলে না। কারখানা কর্তৃপক্ষকে বেতন বাড়ানোর কথা বললেও তারা বেতন বাড়াচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আন্দোলন করতে এসেছি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-কোনাবাড়ী জোন) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন কারখানায় পাটকেল নিক্ষেপ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

সারা বাংলাদেশে শিল্প এলাকায় টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা

আপডেটের সময়: ১২:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩
print news

সারা বাংলাদেশে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা
নারায়ণগঞ্জ, মিরপুরে, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েকদিন ধরে , রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় তারা বন্ধ করে দেন বেশকিছু পোশাক কারখানা।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনব্যাপী কোনাবাড়ি, মৌচাক কাশিমপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা ঢাকা -টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেমে আসেন। পরে তারা ওই মহাসড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। শ্রমিকরা লাঠি-সোঠা হাতে নিয়ে দোকানপাট, বিভিন্ন মেডিসিনের দোকানে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় হামলার আশংকায় কোনাবাড়ি এলাকার দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্ষোভকারীরা মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
কোনাবাড়ি থেকে মিছিল সহকারে শ্রমিকরা ভোগড়া বাইপাস হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ দিয়ে কলম্বিয়া গার্মেন্টস পর্যন্ত যান। সেখানে তারা বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। খবর পেয়ে পুলিশ মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।
গত ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিচালা ও মৌচাক এলাকার শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে আসছেন। গত কয়েকদিনে তারা এসব এলাকায় ব্যাপক কারখানা ভাংচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর করেছেন।
কোনাবাড়ি তুষকা নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আমেনা আক্তার বলেন, আমাদের বেতন ৮ হাজার টাকা। এই টাকায় আমাদের সংসার চলে না। আমরা চাই আমাদের বেতন যেন ২৩ হাজার টাকা করা হয়।
কারখানার শ্রমিক সফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে এখন সব কিছুর দাম বেশি। তাই বর্তমান বেতন দিয়ে চলতে পারি না। দেশে টাকা পাঠাতে হয়। সেই টাকাও এখন পাঠাতে পারি না। পুরো মাস ধার দেনা করে চলতে হয়। ঘর ভাড়াও দিতে হয়।
পোশাক শ্রমিক আফরোজা বেগম বলেন, অপারেটর পদে চাকরি করি। বেতন ১০ হাজার ২০০ টাকা। দ্রব্যের অতিরিক্ত দামের কারণে এই বেতনে সংসার চলে না। কারখানা কর্তৃপক্ষকে বেতন বাড়ানোর কথা বললেও তারা বেতন বাড়াচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আন্দোলন করতে এসেছি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-কোনাবাড়ী জোন) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন কারখানায় পাটকেল নিক্ষেপ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।