
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মধ্যপাড়া পোয়া পুকুরপাড় এলাকায় জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল করে অবৈধ ও অনুমোদনহীন ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মোমেন মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিজেকে কখনো প্রবাসী, কখনো ব্যবসায়ী, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয়দানকারী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে বর্তমান একটি রাজনৈতিক মহলের সাথে সখ্য গড়ে তুলে তিনি এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তিনি তা তোয়াক্কা করছেন না। উল্টো প্রতিবাদকারীদের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মামলা-হামলার ভয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় রিকশাচালক মো. আলম মিয়ার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে এই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আলম মিয়া বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং ১০৬/২০২৪) দায়ের করেন। আদালত থেকে ভবনটির নির্মাণকাজের ওপর ৫ বার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আলম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমার দুটি ছেলে প্রতিবন্ধী এবং দুই ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন। রিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। পৈতৃক ভিটা দখল করে মোমেন ও তার সহযোগীরা অবৈধভাবে ভবন তুলছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ২০ লাখ টাকার বাজেট করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।
অভিযুক্তের বাবা তাজুল ইসলাম দাবি করেন, ওই জমিতে অভিযোগকারীর কোনো মালিকানা নেই এবং জায়গাটির প্রকৃত মালিক ঠিকাদার ফয়েজ। এছাড়া আদালত বা থানা থেকে কাজ বন্ধের কোনো নোটিশ বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম জানান, পৌরসভা থেকে এ পর্যন্ত ৭ তলার ওপরে কোনো ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অনুমোদনহীন এই ভবনের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যানারে নিষেধাজ্ঞা ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও পৌরসভার বাধা উপেক্ষা করে কীভাবে এই অবৈধ নির্মাণকাজ চলছে—তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 



















