
আরিফুর রহমান তীব্র–লক্ষীপুর সদর◼️
টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলার অন্তত ১০টি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এতে লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
৮ জুলাই রাতে ভোলা নদীবন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন জানান, সমুদ্র বন্দরগুলোতে তিন নম্বর এবং নদী বন্দরে এক নম্বর সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকলেও ভোলার বেশ কয়েকটি রুটে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ থাকা রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে: দৌলতখান-আলেকজান্ডার-মির্জাকালু, বেতুয়া-ঢাকা, হাতিয়া-মনপুরা, চরফ্যাশন-মনপুরা, চরফ্যাশন-হাতিয়া, মনপুরা-ঢাকা, তজুমদ্দিন-ঢাকা ও ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুট।
ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটটি টানা চারদিন ধরে বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। ভেলুমিয়ার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, “চারদিন ধরে মেয়ের বাড়ি লক্ষ্মীপুর যেতে পারছি না। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুসলিম মিজিও জানান, “বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে কেউ কোথাও যেতে পারছে না। অসুস্থদের ডাক্তারের কাছে নেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং এটি আরও দুই-তিন দিন চলতে পারে। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল বলেন, “বর্তমানে সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর এবং নদী বন্দরে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
তবে বরিশাল-ঢাকা ও বরিশাল-ভোলা রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা শেখ সেলিম রেজা। তার মতে, নদী বন্দরে এক নম্বর সংকেত থাকলেও এখন পর্যন্ত ওইসব রুটে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই।
টানা বর্ষণে অফিসগামী, শিক্ষার্থী, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষজন বিপাকে পড়লেও কৃষকরা অনেকটা খুশি। তারা বলছেন, এই সময়ের বৃষ্টিতে মাটি হয়ে উঠবে উর্বর, ফলে ধানের বীজ বপনের জন্য এটি হবে উপযুক্ত সময়।
প্রতিবেদকের নাম 
















