
◼️এহিয়া আহমদ–কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বড় ভাই ও রহিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি আব্দুর রহিম রাফি (২৪) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিকে শনাক্ত করে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা জানান, গত শনিবার কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে রাফিকে তার আপন ছোট ভাই রানা (ছদ্মনাম, ১৬) ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও পারিবারিক বিরোধ ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ভাই অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে ছোট ভাইকে মাদ্রাসায় পড়াতে চাইতেন, কিন্তু ছোট ভাই পড়াশোনায় অনীহা দেখিয়ে বাড়িতেই বেশি সময় কাটাতো। এ নিয়ে নিয়মিত শাসনের কারণে তার মনে ক্ষোভ জন্মায়। এছাড়া রাফির ভালোবেসে বিয়ে এবং মা, ভাই ও ভাবীর মধ্যে চলমান বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
নোবেল চাকমা আরও জানান, ঘটনার আগের দিন রানা বড় ভাইয়ের কাছে ৫০০ টাকা চাইলে রাফি না দিয়ে উল্টো গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে খাটের নিচে রাখা দা বের করে ঘুমন্ত বড় ভাইয়ের ঘাড়ে উপর্যুপরি কোপ মেরে হত্যা করে। পরে দা ও নিজের রক্তমাখা লুঙ্গি খাটের নিচে রেখে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। প্রথমে সে অপরাধ অস্বীকার করলেও অধিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ভাইয়ের জানাজায় মানুষের শোকাবহ দৃশ্য দেখে অনুশোচনায় নৃশংস হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়।
গত ৯ আগস্ট দুপুরে সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রাম থেকে রাফির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাশ ও কমলগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। গোপন তথ্য, প্রযুক্তি ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে পরদিনই ছোট ভাইকে আটক করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত দা ও রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-০৫, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।
প্রতিবেদকের নাম 















