
◼️আয়াত–পীরগঞ্জ (রংপুর)
আজ ৫ আগস্ট, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় পালিত হলো গণআন্দোলনের বিজয় দিবস—এক ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত দিন। এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে টানা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পদত্যাগে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই আন্দোলনের বিজয়ের দিনটি স্মরণে পীরগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল ও গণজমায়েত।সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে রাজপথে নেমে আসেন। গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের এই দিবস উদযাপনকে ঘিরে পুরো পীরগঞ্জে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় পীরগঞ্জেরই গর্ব, গণআন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও নেতৃত্বদানকারী মুগ্ধ আবু সাঈদকে। তার নেতৃত্বে তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়, তা-ই পরিণত হয় এক ঐতিহাসিক জয়ে। মিছিল ও সমাবেশে তার ছবি, উদ্ধৃতি ও স্মৃতিচারণে ভরে ওঠে পুরো দিন।
বক্তারা বলেন, “মুগ্ধ আবু সাঈদ শুধু পীরগঞ্জের নয়, গোটা দেশের জন্য এক সাহসী নাম। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সংগ্রামী চেতনা ছাড়া এই বিজয় কল্পনাও করা যেত না।” তরুণ প্রজন্ম তাকে নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে। এক শিক্ষার্থী জানায়, “আমরা গর্বিত, পীরগঞ্জের মাটিতেই জন্ম নিয়েছেন এমন এক বিপ্লবী মানুষ, যিনি ইতিহাস বদলে দিয়েছেন।”উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত হয় আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, গণসংগীত এবং গণআন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী। তরুণ-প্রবীণ সকলেই অংশ নেন এই অনুষ্ঠানে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে মিছিল ও উদযাপনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।আজকের এই বিজয় দিবস পীরগঞ্জে পরিণত হয় গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীকী চিত্রে। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মাধ্যমে জনগণ আবারও জানিয়ে দেয়—তারা জেগে আছে, সচেতন আছে এবং অধিকার আদায়ে তারা এক ও অভিন্ন।ছবিতে দেখা যায়: বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানার হাতে তরুণদের উচ্ছ্বসিত মুখ, “মুগ্ধ আবু সাঈদ আমাদের আশা” লেখা পোস্টার, এবং নারীদের দৃপ্ত অংশগ্রহণ।৫ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, এটি ইতিহাসের বাঁক ঘোরানো এক দিন। পীরগঞ্জ আজ স্মরণ করলো সেই দিন, সেই নেতা, সেই বিজয়কে। এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সংগ্রাম আর ঐক্যের মধ্য দিয়েই আসে অধিকার প্রতিষ্ঠার জয়।
প্রতিবেদকের নাম 















