Dhaka ০১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ৫৬টি লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৩৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৯৩ সময় দেখুন
print news

◼️এ.এম.আইয়ুব–চকরিয়া(কক্সবাজার)

 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ৭২টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। গেটম্যান না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার করছে এসব ক্রসিং। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত এক বছরে অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ট্রেনের ধাক্কায় একাধিকবার বন্য হাতির মৃত্যুও হয়েছে।

উদ্বোধনের পরও নিরাপত্তাহীনতা

২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্বোধন করা হয় দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন। এক মাস পর থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এতে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হলেও অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

গত ১ আগস্ট রামু উপজেলার রশিদনগর এলাকায় গেটম্যানবিহীন অনুমোদিত এক ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের ক্রসিং পার হন।

ইসলামাবাদ–রামু সেকশনে ১৭টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র একটি গেটে গেটম্যান রয়েছে। একই অবস্থা চকরিয়া, ডুলাহাজারা, হারবাং ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে। কোথাও কোথাও “নিজ দায়িত্বে পারাপার করুন” লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও তা কার্যত কোনো কাজে আসছে না।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ এখনো প্রকল্পাধীন। ডিসেম্বরের আগে রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর সম্ভব নয়। স্থায়ী জনবল নিয়োগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় কিছু অস্থায়ী গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও তা একেবারেই অপ্রতুল।

প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন বলেন—

“দুর্ঘটনা কমাতে ৪৬টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি চলছে। সব লেভেল ক্রসিং অনুমোদিত, পর্যায়ক্রমে গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”

অবিলম্বে সব অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের প্রধান পর্যটন শহরের রেলপথে দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ৫৬টি লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত

আপডেটের সময়: ০৭:৩৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️এ.এম.আইয়ুব–চকরিয়া(কক্সবাজার)

 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ৭২টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। গেটম্যান না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার করছে এসব ক্রসিং। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত এক বছরে অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ট্রেনের ধাক্কায় একাধিকবার বন্য হাতির মৃত্যুও হয়েছে।

উদ্বোধনের পরও নিরাপত্তাহীনতা

২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্বোধন করা হয় দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন। এক মাস পর থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এতে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হলেও অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

গত ১ আগস্ট রামু উপজেলার রশিদনগর এলাকায় গেটম্যানবিহীন অনুমোদিত এক ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের ক্রসিং পার হন।

ইসলামাবাদ–রামু সেকশনে ১৭টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র একটি গেটে গেটম্যান রয়েছে। একই অবস্থা চকরিয়া, ডুলাহাজারা, হারবাং ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে। কোথাও কোথাও “নিজ দায়িত্বে পারাপার করুন” লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও তা কার্যত কোনো কাজে আসছে না।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ এখনো প্রকল্পাধীন। ডিসেম্বরের আগে রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর সম্ভব নয়। স্থায়ী জনবল নিয়োগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় কিছু অস্থায়ী গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও তা একেবারেই অপ্রতুল।

প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন বলেন—

“দুর্ঘটনা কমাতে ৪৬টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি চলছে। সব লেভেল ক্রসিং অনুমোদিত, পর্যায়ক্রমে গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”

অবিলম্বে সব অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের প্রধান পর্যটন শহরের রেলপথে দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে।