Dhaka ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

চার বছর কথা না বলে রেকর্ড করলেন নীলফামারীর এক মুরব্বি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • ২১২ সময় দেখুন
print news

আরেফিন ইসলাম–জলঢাকা,নীলফামারী থেকে◼️

 

নদীর তীরে মাটির গুহায় একাকী বসবাস। মুখে কোনো কথা নেই—চার বছর ধরে চলেছে কেবল মৌনতা আর নির্জন সাধনা। এমনই আশ্চর্য ও ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করছেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার দক্ষিণ পাইটকাপাড়ার বাসিন্দা শ্রী রঞ্জিত (৫০), যিনি এখন পরিচিত ‘সাধু রঞ্জন’ নামে।

২০২০ সালে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থানে সাধনা শেষে দেশে ফিরে শ্রী রঞ্জিত মানস করেন, ১২ বছর কারো সঙ্গে কথা না বলেই কাটাবেন জীবনের একটি অধ্যায়। তার এই সিদ্ধান্তে প্রথমে পরিবার আপত্তি জানালেও শেষপর্যন্ত সম্মতি দেয় নদীর তীরে নিজস্ব জমিতে তৈরি এক মাটির গুহায় বসবাসের জন্য।

প্রথমে নিজ হাতে খুঁড়ে তৈরি করা গুহাটিকে পরবর্তীতে ইট-সিমেন্ট দিয়ে সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন এক উপাসনালয়ে রূপ দেন তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে এখন স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন রঞ্জিত। কথা না বললেও প্রয়োজন হলে লিখে কিংবা ইশারায় মত প্রকাশ করেন তিনি।

খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে সাধুসুলভ সরলতা। সকালে দুধ ও কলা, দুপুরে ভুট্টার গুঁড়া আর রাতে নিজ হাতে রান্না করা সবজি খান তিনি। পাশাপাশি নিজের হাতে ফলজ ও সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন গুহার চারপাশে। সময় কাটান নির্জনে—বিনিময়ে চান না কিছুই।

রঞ্জিতের বড় ছেলে জানান, বাবা কথা না বললেও পরিবারকে ভুলে যাননি। তিনি সবসময় ইশারায় যোগাযোগ রাখেন, তবে সাধনা থেকে বিচ্যুত হন না একটুও। সংসারের দায়িত্ব এখন তিনিই সামলাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, নদীর পাড়ে গুহাবাসী এই সাধুকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল। দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এসে ভিড় করে তাকে এক নজর দেখতে। কেউ কেউ তার নির্জন জীবনে খুঁজে পান মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণা।

গৃহত্যাগ না করেও গৃহস্থ জীবনের মাঝখানে সাধনার এমন এক নিদর্শন হয়ে উঠেছেন শ্রী রঞ্জিত, যিনি মনের শক্তি ও আত্মসংযমের এক বিরল উদাহরণ। দক্ষিণ পাইটকাপাড়ার দেওনাই নদীর তীরে গেলে এখন অনেকেই বলেন—“ওই যে, নদীর পাড়ে মৌন সাধু বসে আছেন।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

চার বছর কথা না বলে রেকর্ড করলেন নীলফামারীর এক মুরব্বি

আপডেটের সময়: ১০:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
print news

আরেফিন ইসলাম–জলঢাকা,নীলফামারী থেকে◼️

 

নদীর তীরে মাটির গুহায় একাকী বসবাস। মুখে কোনো কথা নেই—চার বছর ধরে চলেছে কেবল মৌনতা আর নির্জন সাধনা। এমনই আশ্চর্য ও ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করছেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার দক্ষিণ পাইটকাপাড়ার বাসিন্দা শ্রী রঞ্জিত (৫০), যিনি এখন পরিচিত ‘সাধু রঞ্জন’ নামে।

২০২০ সালে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থানে সাধনা শেষে দেশে ফিরে শ্রী রঞ্জিত মানস করেন, ১২ বছর কারো সঙ্গে কথা না বলেই কাটাবেন জীবনের একটি অধ্যায়। তার এই সিদ্ধান্তে প্রথমে পরিবার আপত্তি জানালেও শেষপর্যন্ত সম্মতি দেয় নদীর তীরে নিজস্ব জমিতে তৈরি এক মাটির গুহায় বসবাসের জন্য।

প্রথমে নিজ হাতে খুঁড়ে তৈরি করা গুহাটিকে পরবর্তীতে ইট-সিমেন্ট দিয়ে সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন এক উপাসনালয়ে রূপ দেন তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে এখন স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন রঞ্জিত। কথা না বললেও প্রয়োজন হলে লিখে কিংবা ইশারায় মত প্রকাশ করেন তিনি।

খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে সাধুসুলভ সরলতা। সকালে দুধ ও কলা, দুপুরে ভুট্টার গুঁড়া আর রাতে নিজ হাতে রান্না করা সবজি খান তিনি। পাশাপাশি নিজের হাতে ফলজ ও সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন গুহার চারপাশে। সময় কাটান নির্জনে—বিনিময়ে চান না কিছুই।

রঞ্জিতের বড় ছেলে জানান, বাবা কথা না বললেও পরিবারকে ভুলে যাননি। তিনি সবসময় ইশারায় যোগাযোগ রাখেন, তবে সাধনা থেকে বিচ্যুত হন না একটুও। সংসারের দায়িত্ব এখন তিনিই সামলাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, নদীর পাড়ে গুহাবাসী এই সাধুকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল। দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এসে ভিড় করে তাকে এক নজর দেখতে। কেউ কেউ তার নির্জন জীবনে খুঁজে পান মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণা।

গৃহত্যাগ না করেও গৃহস্থ জীবনের মাঝখানে সাধনার এমন এক নিদর্শন হয়ে উঠেছেন শ্রী রঞ্জিত, যিনি মনের শক্তি ও আত্মসংযমের এক বিরল উদাহরণ। দক্ষিণ পাইটকাপাড়ার দেওনাই নদীর তীরে গেলে এখন অনেকেই বলেন—“ওই যে, নদীর পাড়ে মৌন সাধু বসে আছেন।”