Dhaka ০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ফসলি জমিতে চলছে মাটি লুটের মহোৎসব!

print news

লিটন সরকার–রৌমারী (কুড়িগ্রাম)◼️

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামে চলছে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব। দিনের পর দিন এই অপতৎপরতা চালিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে ফসলি জমি, আর হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বক্কার খাঁনের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় তিন ধরনের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন আমির খাঁনের ছেলে সোহেল খাঁন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। নিজের মালিকানাধীন ভেকু ব্যবহার করে ফসলি জমি কেটে নিচ্ছেন প্রকাশ্যে।

ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং কৃষকরা পড়ছেন বিপাকে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এক সময় যে জমিতে তিন ধরনের ফসল ফলত, এখন তা পরিণত হয়েছে উঁচু-নিচু গর্তে। এতে শুধু ফসল উৎপাদনই নয়, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে কৃষিকাজ আরও দুরূহ হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যদি এই মাটি কাটা বন্ধ না হয়, তবে অচিরেই গ্রামটি ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনের কবলে পড়বে। নদী ঘেঁষা এলাকায় মাটি কেটে ফেলার কারণে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে যাচ্ছে এবং পানি প্রবাহের দিক পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে অনেক পরিবার। কেউ কেউ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন তারা চাচ্ছেন, জরুরি ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

পরিবেশবিদদের মতে, ফসলি জমিতে এই ধরনের অবৈধ খনন কৃষি নির্ভর গ্রামীণ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। তদুপরি, এ ধরনের কাজ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেও ত্বরান্বিত করে।

স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর জোর দাবি—দীর্ঘদিনের এই অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ফসলি জমিতে চলছে মাটি লুটের মহোৎসব!

আপডেটের সময়: ০৬:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
print news

লিটন সরকার–রৌমারী (কুড়িগ্রাম)◼️

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামে চলছে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব। দিনের পর দিন এই অপতৎপরতা চালিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে ফসলি জমি, আর হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বক্কার খাঁনের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় তিন ধরনের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন আমির খাঁনের ছেলে সোহেল খাঁন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। নিজের মালিকানাধীন ভেকু ব্যবহার করে ফসলি জমি কেটে নিচ্ছেন প্রকাশ্যে।

ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং কৃষকরা পড়ছেন বিপাকে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এক সময় যে জমিতে তিন ধরনের ফসল ফলত, এখন তা পরিণত হয়েছে উঁচু-নিচু গর্তে। এতে শুধু ফসল উৎপাদনই নয়, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে কৃষিকাজ আরও দুরূহ হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যদি এই মাটি কাটা বন্ধ না হয়, তবে অচিরেই গ্রামটি ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনের কবলে পড়বে। নদী ঘেঁষা এলাকায় মাটি কেটে ফেলার কারণে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে যাচ্ছে এবং পানি প্রবাহের দিক পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে অনেক পরিবার। কেউ কেউ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন তারা চাচ্ছেন, জরুরি ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

পরিবেশবিদদের মতে, ফসলি জমিতে এই ধরনের অবৈধ খনন কৃষি নির্ভর গ্রামীণ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। তদুপরি, এ ধরনের কাজ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেও ত্বরান্বিত করে।

স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর জোর দাবি—দীর্ঘদিনের এই অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।